ভেষজে পায়ের নখের ফাঙ্গাস প্রতিরোধ

আজকাল অনেকেরই পায়ের নখে ফাঙ্গাস তথা ছত্রাক পড়ার ঘটনা ঘটে।  চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটি সাধারণত অনিকোমাইকোসিস নামে পরিচিত। ছত্রাকের আক্রমণের কারণে সাধারণত পায়ের নখ স্বাভাবিকের চেয়ে মোটা হয়, নখ কাটতে অসুবিধা হয়, হলুদ বা বাদামী বর্ণ ধারণ করে এবং নখটি শুষ্ক ও ঝরঝরে হয়ে যায় যার জন্য খুব সহজেই ভেঙ্গে যায়। অনেক সময় পা থেকে অনেক দুর্গন্ধ বের হতে পারে। আবার এর কারণে নখের গোঁড়া আক্রান্ত, ব্যথা, প্রদাহ এবং পা ফুলে যাওয়ারও ঘটনা ঘটে। তখন আক্রান্ত পা যেমন দেখতে যেমন বিশ্রী লাগে তেমনি একে সারিয়ে তোলাও বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পরে।

সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে মোজা পড়ে থাকলে তা ঘামে ভিজে ছত্রাকের আক্রমণ হতে পারে। এছাড়া ত্বকের অস্বাভাবিক পিএইচের মাত্রা, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, স্বাস্থ্য বিধি না মানা এবং ডায়াবেটিস এর কারণে নখের এই রোগ হয়ে থাকে। যদি যথা সময়ে এর নিরাময়ের ব্যবস্থা না করা হয় তাহলে নখটি ভেঙ্গে যেতে পারে এমনকি সম্পূর্ণ নখটি পরে যেতে পারে।

আজকাল পায়ের নখের ছত্রাক নির্মূলে বাজারে অনেক ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়। কিন্তু এসব ওষুধের নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। কাজেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়িয়ে কাঙ্খিত উপকার পেতে ব্যবহার করতে পারেন নানা ভেষজ।

এক্ষেত্রে জেনে নিন উপকারী কিছু ভেষজের কথা-

1

চা গাছের তেল

অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টিফাংগাল বৈশিষ্ট্য থাকায় চা গাছের তেল পায়ের যত্নে অনেক বেশি উপকারী। এজন্য প্রথমে কয়েক ফোঁটা চা গাছের তেলের সঙ্গে অলিভ অয়েল অথবা নারকেল তেল একসঙ্গে মিশিয়ে পায়ের নখের আক্রান্ত স্থানে লাগান। নিয়মিত লাগালে দেখবেন নখ সুস্থ হয়ে উঠার পাশাপাশি পা হয়ে আরও সুন্দর।

3অরিগানো তেল ও অলিভ অয়েল

দুই ফোঁটা অরিগানো তেলের ( এটি পুদিনার একটি জাত) সঙ্গে এক চা চামচ অলিভ অয়েল ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগান। এটি ছত্রাক সংক্রান্ত যে কোন রোগ প্রতিরোধে ভালো কাজ করবে। তবে লাগানোর সময় কমপক্ষে ৩০ মিনিট ধরে আক্রান্ত স্থানে ম্যাসাজ করুন। ভালো ফলাফলের জন্য দিনে দুইবার লাগাতে পারেন।

4

নারকেল তেল

আক্রান্ত স্থানে ১৫ মিনিট ধরে নারকেল তেল মালিশ করুন। এতে পায়ের ফোলাভাব কমবে।

5

লেমনগ্রাস অয়েল

পায়ের নখের ছত্রাক প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো লেমনগ্রাস অয়েল। এজন্য প্রথমে এর সঙ্গে এক আউন্স নারকেল তেল ভালোভাবে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে নিন। নিয়মিত এই মিশ্রণ ব্যবহারে রোগ প্রতিরোধ সহজ হবে।

6

ল্যাভেন্ডার তেল

ল্যাভেন্ডার তেলের সঙ্গে চা গাছের তেল ভালোভাবে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগান। ১০ মিনিট রেখে পরে পরিষ্কার পানি দিয়ে আক্রান্ত স্থান ধুয়ে ফেলুন। এই মিশ্রণটিও পায়ের নখের ফাঙ্গাস সারাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

7

রেড়ির তেল

একটি কর্টন বারের মাথায় রেড়ির তেল লাগিয়ে আক্রান্ত স্থানের চারপাশে ভালোভাবে লাগান। এটি পা ফোলা কমানোর পাশাপাশি ফাঙ্গাস সংক্রান্ত যে কোন রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে।

2

হলুদের পেস্ট

হলুদে অ্যান্টিফাংগাল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় তা পায়ের নখের জন্য ভালো। এজন্য হলুদের সঙ্গে পানি মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নখের আক্রান্ত স্থানে লাগান। ভালো ফলাফলের জন্য দিনে তিনবার এই পেস্ট লাগাতে পারেন।

8

আপেল সিডার ভিনেগার

চালের আটার সঙ্গে আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে পেস্টটি আক্রান্ত স্থানে লাগান। কিছুক্ষণ রেখে পরে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে সহজেই নখের ফাঙ্গাস প্রতিরোধ হবে।

তথ্যসূত্র: বোল্ডস্কাই

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here