মশা তাড়াবে গাছ!

অজান্তেই কিন্তু গাছটি মশা থেকে শুরু করে এ-জাতীয় কীটপতঙ্গ তাড়িয়ে যাচ্ছে নিয়ম করে।

ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বিভিন্ন ধরনের গাছ রাখেন অনেকে। নানা রকমের বাহারি পাতা ফুল অর্কিড, ক্যাকটাসের সঙ্গে কেউ হয়তো ব্যালকোনিতে সবুজ পাতাময় একটি সাইট্রনেলা গাছ রেখে দিয়েছেন। আপনার অজান্তেই কিন্তু গাছটি মশা থেকে শুরু করে এ-জাতীয় কীটপতঙ্গ তাড়িয়ে যাচ্ছে নিয়ম করে। বিজ্ঞানীরা বলেন, সাইট্রনেলা গাছ বাতাসে অক্সিজেনের সঙ্গে এক ধরনের ঘ্রাণ ছড়িয়ে দেয়, যা মশা তাড়াতে সাহায্য করে। ঘরে ও ব্যালকোনিতে পাঁচ-সাতটি সাইট্রনেলা গাছের উপস্থিতি মানে মশা দূরে থাকা। এবার জেনে নেয়া যাক এমন কিছু গাছ সম্পর্কে, যেগুলো কাজ করে মশার ফাঁদ হিসেবে।

কার্নিভোরাস গোত্রীয় এ গাছগুলোর মধ্যে অন্যতম ভেনাস ফ্লাইস ট্যাপ। সিলেটের জৈন্তা অঞ্চলে খোঁজ মেলে এর। মশার ফাঁদ হিসেবে কাজ করে, এমন গাছের মধ্যে কলস গাছের নামও উল্লেখযোগ্য। এছাড়া রয়েছে সূর্যশিশির। শ্যাওলার ওপর জন্মে এরা। শালবনে ছায়াযুক্ত জায়গায় জন্মায়, বিশেষ করে যেখানে মানুষের পদচারণা কম।

সূর্যশিশির

ছোট আকারের এ উদ্ভিদটি মাত্র ৩.৫ ইঞ্চি (৮ সে.মি.) চওড়া। এটি প্রায়ই বড় ধরণের আগাছা ও এর আশেপাশে জন্মানো গাছপালার নিচে লুকানো অবস্থায় থাকে। এর পাতাগুলো ছোট এবং গোলাকার। গ্রীষ্মকালে গোলাকার পাতাগুলোর উঁচু কান্ডগুলোতে সাদা সাদা ফুল ফোটে। সূর্যশিশিরের পাতাগুলোকে উজ্জ্বল লাল রঙের দেখায়। মনে হয় ওগুলোর উপর শিশির কণা চিকচিক করছে। লালচে শিশির বিন্দু দ্বারা আবৃত এ পাতাগুলো আসলে পোকামাকড় ধরার মরণ ফাঁদ। সূর্যশিশিরের পাতাগুলো বিভিন্ন উচ্চতার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অসংখ্য বোঁটা দিয়ে ঢাকা থাকে। প্রত্যেকটি বোঁটার ওপর থাকে অতি ক্ষুদ্র একটি গ্রন্থি বা অঙ্গ যা এক ধরণের স্বচ্ছ আঠালো তরল পদার্থ উৎপন্ন করে। এ তরল পদার্থটি বোঁটাগুলোর ওপর শিশির বিন্দুর মত জমা হয়। তরল নিঃসরণকারী গ্রন্থিটি দেখতে লাল বলে এর ওপরের তরল পদার্থটিও লালচে বলে মনে হয়। সূর্যশিশির এক ধরণের সুগন্ধও বাতাসে ছড়ায়।

সূর্যশিশির
সূর্যশিশির

শিকার পদ্ধতি

মাছি ও অন্যান্য পোকামাকড় উজ্জ্বল লাল রঙ, শিশির বিন্দু আর সুগন্ধে আকৃষ্ট হয়ে উদ্ভিদের কাছে চলে আসে। কিন্তু পোকা গাছটির পাতার ওপর নামা মাত্রই পোকার পাগুলো পাতার উঁচু বোঁটায় থাকা তরল পদার্থে আটকে যায়।

পা ছাড়িয়ে নিতে ওরা যতই টানাটানি করে ততই পাতার গ্রন্থিগুলো থেকে আরো বেশি করে আঠালো রস বের হতে থাকে। এভাবে পোকামাকড়গুলো আরো শক্তভাবে পাতায় আটকে যায়। পোকার চারপাশে থাকা বোঁটাগুলো বেঁকে গিয়ে আরো বেশি পরিমাণে রস বের করতে থাকে। সম্পূর্ণ পাতাটি কুঁচকে গিয়ে পোকাটির চারপাশে একটি পেয়ালার মত আকার গঠন করে। পোকাটির দেহের নরম অংশগুলো গলে গিয়ে পাতায় মিশে না যাওয়া পর্যন্ত সূর্যশিশির উদ্ভিদের পরিপাকে সাহায্যকারী এনজাইমগুলো কাজ করে। ৪-৫ দিন পর সূর্যশিশিরের পাতা ও বোঁটাগুলো আবার আগের মত সোজা হয়ে যায়।

এবার জেনে নেয়া যাক এর পরিচর্যা সম্পর্কে:

 

সাইট্রনেলা গাছ
সাইট্রনেলা গাছ

এদিকে কার্নিভোরাস জাতীয় গাছ কেবল মশাই তাড়ায় না, ছারপোকা থেকে শুরু করে কীটপতঙ্গ তাড়াতেও সহায়তা করে। গাছের যত্ন নিয়ে খুব একটা বাড়াবাড়ি নেই। ঘরে-বাইরে পছন্দমতো যেকোনো জায়গায় রাখলেই চলে। তবে প্রতিদিন যদি নিয়ম করে ৬ ঘণ্টার মতো রোদে রাখা হয়, তাহলে এ গাছগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই ব্যালকোনি কিংবা ড্রয়িংরুমে জানালার খাঁজে মানানসই একটি টবে রাখতে পারেন। যেখানে আলো-ছায়া ও বাতাস চলাচলের বন্দোবস্ত রয়েছে। আর এ গাছটিকে ইনডোর প্লান্ট হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে নিয়মিত নয়, মাঝে মধ্যে পানি ও সার দিতে হবে। কারণ গাছটি মোটামুটি শুষ্কতা সহনশীল। যেকোনো জায়গায় জন্মায়, লম্বায় দুই থেকে চার ফুটের মতো হয়। আর এটি দেখতে অনেকটা ঝোপের মতো।

এদিকে কার্নিভোরাস জাতীয় গাছ কেবল মশাই তাড়ায় না, ছারপোকা থেকে শুরু করে কীটপতঙ্গ তাড়াতেও সহায়তা করে।

কলস গাছ
কলস গাছ

পিচার প্লান্ট: পানি রাখার কলস কিংবা ঘটের মতো দেখতে হয় এ জাতের গাছগুলো। এ গাছে নিয়ম করে পানি দিতে হয়। একে তীব্র রোদে না রাখাই ভালো। এরা কৌশলে ফাঁদে ফেলে পোকামাকড়কে। ভেতর থেকে এক ধরনের এনজাইম (এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থবিশেষ) নিষ্কাশন করে, যাতে আকৃষ্ট হয়ে ফাঁদে আটকে পড়ে মশা থেকে শুরু করে অন্যান্য কীটপতঙ্গ।

 

ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ: প্রতিদিন নিয়ম করে পানি দিতে হয়। এ গাছের কাঁটাযুক্ত বড় আকারের পাতার ভাঁজে সহজে আটকে পড়ে মশা, মাছি, কীটপতঙ্গ।

সূত্রঃ বণিকবার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here