মাছের চোখে অন্ধত্ব নিরাময়ের আশা

মাছের চোখ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে তারা খুঁজে পেয়েছেন মানুষের বয়সজনিত অন্ধত্ব নিরাময়ের সূত্র।

বিজ্ঞানের নানা আশীর্বাদে আমাদের জীবন হয়েছে গতিশীল, ছন্দময়। আমাদের জীবনকে আরও গতিশীল, ছন্দময় করার জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানীরাও পিছিয়ে নেই। তাঁরা বয়সজনিত অন্ধত্ব নিরাময়ের জন্য এখন পর্যন্ত অনেক নিদান খুঁজে বেড়িয়েছেন। অবশেষে তা পেয়েছেনও। তবে তা পেয়েছেন একটু ব্যতিক্রমী উৎস থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিভিত্তিক ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দাবি করেছেন, মাছের চোখ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে তারা খুঁজে পেয়েছেন মানুষের বয়সজনিত অন্ধত্ব নিরাময়ের সূত্র। খবর ডেইলি মেইল।

বয়সজনিত কারণে বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ দৃষ্টি হারায়। বিশ্বব্যাপী অন্ধত্বের সবচেয়ে বড় কারণগুলোর অন্যতম হলো ম্যাকুলার ক্ষয়। ম্যাকুলা হলো চোখের পেছন দিকে অবস্থিত আলোক সংবেদনশীল টিস্যু দিয়ে গঠিত রেটিনার মধ্যাংশ, রেটিনার কেন্দ্রে অবস্থিত একটি দৃষ্টি-সংবেদি অংশ, যা মানুষের দর্শনশক্তির সূক্ষ্মতা পরিশীলিত করে।

জেব্রাফিশের চোখ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে বিশেষজ্ঞরা মস্তিষ্কের এমন এক উপাদান চিহ্নিত করেছেন
জেব্রাফিশের চোখ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে বিশেষজ্ঞরা মস্তিষ্কের এমন এক উপাদান চিহ্নিত করেছেন

জেব্রাফিশের চোখ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে বিশেষজ্ঞরা মস্তিষ্কের এমন এক উপাদান চিহ্নিত করেছেন, যাকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বয়সজনিত কারণে ম্যাকুলার ক্ষয় রোধ করা সম্ভব। শুধু তাই নয়, এর মাধ্যমে একই সঙ্গে ম্যাকুলার ক্ষতিগ্রস্ত অংশকে পুনরায় সারিয়ে তোলা সম্ভব হতে পারে।

ম্যাকুলা ক্ষয়ে যেতে যেতে রেটিনা যখন পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখনই ঘটে অন্ধত্বের মতো ঘটনা। ম্যাকুলার ক্ষয় ঠিক কী কারণে ঘটে, তা এখনো জানা না গেলেও এটুকু বোঝা গেছে, চোখের বয়স বাড়ার একপর্যায়ে ম্যাকুলার ক্ষয় শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে টেনে নিয়ে যায় অন্ধত্বের দিকে।

গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মস্তিষ্কের এক ধরনের রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ম্যাকুলার ক্ষতিগ্রস্ত অংশকে আবার সারিয়ে তোলা সম্ভব। এমনকি ক্ষয় শুরুর আগেই এ প্রক্রিয়া সম্পাদন করা সম্ভব। এটি করা গেলে একজন মানুষের জীবনে চশমার প্রয়োজনই দেখা দেবে না কখনো।

জেব্রাফিশ ও মানুষের চোখের রেটিনার গঠন-প্রকৃতি প্রায় একই রকম। মস্তিষ্কের এক ধরনের নিউরোট্রান্সমিটারের পরিমাণ কমিয়ে দেয়ার মাধ্যমে মাছটির চোখের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের নিরাময় সাধন করতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। একই পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে মানুষের চোখের রেটিনার ক্ষতিগ্রস্ত অংশকে সারিয়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

সূত্রঃ বণিক বার্তা / এক্সপ্রেস

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here