মালালার সাথে পাল্টে গেছে মা তুর পেকাই এর জীবন!

মালালার সাথে পাল্টে গেছে মা তুর পেকাই এর জীবন!

২০১২ সালে স্কুলে যাবার জন্য মালালা ইউসুফজাইকে তালিবান গুলি করেছিল, তালেবান আক্রমণে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রায় মারাই যাচ্ছিল মালালা। পরে সুস্থ হয়ে ওঠেন যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে চিকিৎসা নিয়ে। এরপর থেকে কাজ করে যাচ্ছেন নারীশিক্ষা কর্মসূচি নিয়ে। পেয়েছেন শান্তিতে নোবেলও।

মালালার এই বিশ্বজোড়া খ্যাতির মধ্যে চাপা পড়ে গিয়েছিল তার মায়ের কথা। এবার বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মালালার মা তুর পেকাই ইউসুফজাই জানিয়েছেন গত পাঁচ বছরে কীভাবে পাল্টে গেছে তার জীবন।

তিনি বলেন, ‘সবকিছু পেছনে ফেলে আসা ছিল খুবই কঠিন। বিদেশে থাকার কথা কখনোই ভাবিনি। অন্যরা যখন তাদের দেশ ছেড়ে যায়, তখন তারা সামনে আসা সবকিছু গ্রহণ করে এবং এর জন্য মানসিক প্রস্তুতি থাকে তাদের। আমাদের তো সে প্রস্তুতিও ছিল না। আমাদের হঠাৎ করেই পাকিস্তান ছাড়তে হয়। ওই হামলা সবকিছু পাল্টে দেয়। সব রেখে মালালার জীবনের দিকে আমাদের মনোযোগ দিতে হয়েছে।’

তুর পেকাই ইউসুফজাই
তুর পেকাই ইউসুফজাই

খুব কম পাঠকই ছবি দেখে তুর পেকাইকে চিনতে পারবেন। মালালা যতবারই উচ্চপর্যায়ের কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দেন, প্রতিবারই তার সঙ্গে থাকেন বাবা জিয়াউদ্দিন। মেয়ের সাফল্য নিয়ে প্রায়ই সাক্ষাৎকার নেয়া হয় তার। কিন্তু খুব কমই জানা যায় মালালার মায়ের কথা। অথচ বার্মিংহামে তাদের বাড়িতে পরিবারের অন্যদের সঙ্গে তিনিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তুর পেকাই বলেন, ‘হাসপাতালে মালালার চিকিৎসা চলার সময়ে আমরা তার দেখাশোনা করছিলাম। পরে সে একটি বই লিখল। আমরা সেটা নিয়েও ব্যস্ত ছিলাম। এজন্য কখনো জনসমক্ষে ছিলাম না। এখন আমি লোকজনকে শিক্ষা অর্জনে সহায়তা করার চেষ্টা করছি। এখন থেকে এসব বিষয়ে আরো বেশি করে সম্পৃক্ত হতে চাই। এই সাক্ষাৎকারগুলো অবশ্য আমার মাতৃভাষায় হলে আমার জন্য সহজ হতো!’

মেয়ে মালালাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার বিষয়টি নিয়ে তুর পেকাইয়েরও অনেক কিছু বলার আছে। হাসপাতালে যখন মালালা মৃত্যুশয্যায় লড়াই করছিল, সেই দৃশ্যের কথা মনে পড়লে এখনো বিচলিত হন। দুই হাতে চোখ লুকিয়ে কাঁদতে শুরু করেন। মেয়ের এখনকার জীবনের কথা ভেবে একটু পরেই অবশ্য মুখে হাসি ফিরে তার। মালালার জীবনের প্রতিটি বছরই এখন তুর পেকাইয়ের জন্য বোনাস।

তিনি বলেন, ‘গত বছর আমি ওর জন্মদিনের কার্ডে লিখেছিলাম, তুমি আমার চার বছর বয়সী মেয়ে। কারণ হামলার সময় থেকে আমি তোমার বয়স গণনা করি। আমার দৃষ্টিতে এটা আমার মেয়ের পুনর্জন্ম।’

সপরিবারে মালালা
সপরিবারে মালালা

তুর পেকাইয়ের জীবন এখন বিলেত মুলুকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। মেয়ে মালালা আর দুই ছেলের দেখাশোনা করেন তিনি। শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা তার কাছে শুধুই ঘরের মেয়ে। এখনো মালালাকে পরামর্শ দেন, যাতে সে নিজের ঘর পরিষ্কার রাখে, শরীরের যত্ন নেয়।

তুর পেকাইয়ের কাছ থেকে মেয়ের দৈনন্দিন কাজের বর্ণনা শুনে মনে হচ্ছিল, একজন মা তার কিশোরী মেয়েকে যেভাবে সামলান, ঠিক তারই বর্ণনা দিচ্ছেন তিনি। মালালার মা বলতে থাকেন, ‘ও ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করে না। পর্যাপ্ত পানিও খায় না। সময়মতো ঘুমায় না। এখনো মধ্যরাত পর্যন্ত পড়াশোনা করে ও। আমরা তাকে বলি, ফল খেতে। আর নামাজ পড়তে।’

পাকিস্তানে পড়াশোনার সুযোগ হয়নি তুর পেকাইর। তবে এখন বার্মিংহামে ইংরেজি ভাষা শিখছেন। বন্ধুদের সঙ্গে নেটওয়ার্কও গড়ে তুলেছেন।

বন্ধুদের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকে এসেছে সোয়াত থেকে। তাদের আমি আগেই চিনতাম। কয়েকদিন আগে এক বন্ধু পেশোয়ার থেকে এসেছেন। অবশ্য আমার ইংরেজি ক্লাসে পাকিস্তানের কেউ নেই। ইরাক, ইরান ও আফগানিস্তানের অনেকে রয়েছেন। আমরা পার্টি করি। ভাত, মুরগি ও মাছ রান্না করি। তারা আমার রান্না খুব পছন্দ করে।’

মালালার বয়স এখন ১৯। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে যাচ্ছেন। রাজনীতি, দর্শন ও অর্থনীতি বিষয়ে পড়ার ইচ্ছা তার।

সূত্র: বিবিসি / বণিক বার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here