মিরাজ বিস্ময় বালক

মিরাজের নামটি বলতেই সংবাদ সম্মেলনে ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুকের চোখেমুখে মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ল। হারের কষ্ট লুকিয়ে স্মিত হেসে বললেন, ‘অসাধারণ একজন বোলার পেয়েছে বাংলাদেশ। এ বয়সেই এত পরিণত!’ সত্যিই, মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ক্রিকেটবিশ্বে তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। চট্টগ্রাম টেস্টেই তার ঘূর্ণিতে নাজেহাল হয়েছিল ইংল্যান্ড। ঢাকায় তো তার হাত ধরে এলো বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জনটি। এত বড় অর্জনের দিনে বেশ কয়েকটি রেকর্ড করে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পেলেন মিরাজ। তাকে বিস্ময় বালক না বলে উপায় আছে!

দেড়শ’ বছরের ক্রিকেট ইতিহাসে মিরাজের আগে মাত্র দু’জন স্পিনার ক্যারিয়ারের প্রথম দুই টেস্টের চার ইনিংসের মধ্যে তিনবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার ক্ল্যারি গ্রিমেট ও ভারতের নরেন্দ্র হিরোয়ানির সেই বিরল তালিকায় গতকাল যুক্ত হয়েছে আরও একটি নাম, মেহেদি হাসান মিরাজ।

miraj_246303

পেসারদের নাম যোগ হলেও এ তালিকা খুব একটা বড় হবে না। তিনিসহ মাত্র ছয়জনের আছে এ কীর্তি। এ ছাড়া সবচেয়ে কম বয়সে টেস্ট ক্রিকেটে দশ উইকেট নেওয়ার তালিকায়ও নাম তুলেছেন মিরাজ। এ তালিকায় স বার ওপরে আছেন আরেক বাংলাদেশি স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র। ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে ১৮ বছর ৪০ দিন বয়সে ১২ উইকেট নিয়েছিলেন বাঁহাতি স্পিনার এনামুল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে মিরাজ ১২ উইকেট নিয়েছেন ১৯ বছর ৫ দিন বয়সে। এ তালিকায় মিরাজ আছেন পঞ্চম স্থানে। তার আগে আছেন পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম, ভারতের শিবারাম কৃষ্ণ এবং পাকিস্তানের ওয়াকার ইউনিস। তারা সবাই ১৯ পূর্ণ হওয়ার আগেই দশ উইকেট নিয়েছিলেন।

cricetar-miraj

‘তবে বয়সের হিসাবে এনামুলের কাছে হেরে গেলেও তার একটি রেকর্ড কিন্তু গতকাল নিজের করে নিয়েছেন মিরাজ। এতদিন এনামুলের জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের পারফরম্যান্স (১২/২০০) ছিল বাংলাদেশের পক্ষে সেরা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এ টেস্টে ১৫৯ রানে ১২ উইকেট নিয়ে দেশের হয়ে সেরা রেকর্ডটির মালিক হয়ে গেছেন মিরাজ। টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে দশ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব আছে মাত্র আর একজনের, তিনি সাকিব আল হাসান।

 

165808_170

দেশের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়ের সঙ্গে নিজের এত অর্জন, মিরাজের অবস্থাটা বুঝুন একবার! সত্যি সত্যিই স্বপ্নের মধ্যে আছেন। তার ভাষায়, ‘এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না। আসলে আমরা জিতেছি, সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশ জিতেছে। এটাই বড় পাওয়া।’ ‘আমি যাদের খেলা টিভিতে দেখেছি তাদের সঙ্গে খেলতে পেরে আরও বেশি ভালো লাগছে। আসলে আমি নিজেও ভাবতে পারছি না যে, আমি জাতীয় দলে খেলছি, এত কিছু করেছি। মুশফিক ভাই, তামিম ভাই, সাকিব ভাই, রিয়াদ ভাইদের সঙ্গে খেলছি! আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত!’

প্রথম ইনিংসে তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৪৩ রানে ৮ উইকেট পড়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ডের। গতকালও ইংলিশদের রান যখন বিনা উইকেটে ১০০, যখন লাখ লাখ ক্রিকেটানুরাগী হতাশায় বিহ্বল তখনই চা-বিরতির পর প্রথম বলেই বেন ডাকেটের স্টাম্প ছত্রখান করে দিয়ে শিকার শুরু করেন মিরাজ। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, চা-বিরতির পর অধিনায়ক তার হাতে বল তুলে দেওয়ার সময় কী বলেছিলেন।

b3f401b986eb1246f2220b8a0364ade3-trophy-with-2-captaint

অধিনায়ক নাকি তাকে রান চেক দিতে বলেছিলেন, ‘মুশফিক ভাই একটাই কথা বলছেন, রানটা যেন চেক হয়। যখন দুই পাশ থেকেই রান চেক হবে, তখন উইকেট পাওয়ার সুযোগ থাকবে। আমরা যেন উত্তেজিত না হয়ে যাই, একটা সেশন ওরা ভালো খেলেছে, আরেকটা সেশন আমাদেরও ভালো কিছু হতে পারে। আর একটা উইকেট পড়লেই আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব, এ বিশ্বাস আছে।’ তার বোলিংয়ের মূল মন্ত্র হলো, জায়গামতো বল ফেলা। তাহলেই নাকি বড় বড় ব্যাটসম্যানদের খেলতে অসুবিধা হবে এবং আউটের সুযোগ তৈরি হবে।

তথ্য সূত্রঃ    নাজমুল হক নোবেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here