মেধা বিকাশে অক্ষরজ্ঞান নয়, প্রয়োজন স্পষ্ট ধারণা

একেবারে গোড়াতেই প্রয়োজন বাচ্চাদের স্পষ্ট ধারণা তৈরি হওয়া। তাহলেই তাদের মেধার পূর্ণ বিকাশ ঘটবে।

কেউ কেউ দেড় বছর বয়সেই বাচ্চাকে স্কুলে পাঠান। আবার কেউবা চার বছর বয়সে। তবে যে বয়সেই শিশুকে স্কুলে পাঠান হোক না কেন প্রত্যেক বাবা-মায়ের উদ্দেশ্য কিন্তু একটাই। তাহলো- বাচ্চাকে অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন করে তোলা। এখন প্রশ্ন হলো, এভাবে শিখায় শিশুদের আদতে কতটুকু লাভ হয়? সমীক্ষা বলছে, এতে শিশুদের মেধার পূর্ণ বিকাশ ঘটে না। তাদের মেধার পূর্ণ বিকাশে অক্ষরজ্ঞান নয়, প্রয়োজন স্পষ্ট ধারণা।

ওই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বাচ্চার প্রথম স্কুলে যাওয়া। প্রথম শেখা। প্রথম পড়া। মনে থাকবে কীভাবে? বাবা-মায়ের বড় চিন্তা এটাই। আগে ‘এ’ ফর আপেল, ‘বি’ ফর বল, ‘সি’ ফর ক্যাট…. সকাল-সন্ধ্যা নামতার মতোই মুখস্থ করতে বসিয়ে দেওয়া হত শিশুদের। কিন্তু একেবারে গোড়াতেই প্রয়োজন বাচ্চাদের স্পষ্ট ধারণা তৈরি হওয়া। তাহলেই তাদের মেধার পূর্ণ বিকাশ ঘটবে।

একইসঙ্গে শেখা ও শেখানোর কায়দাতেও পরিবর্তন নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে ওই সমীক্ষায়। বলা হয়েছে, আগে অ্যালফাবেট বা বর্ণ নয়, বরং কোন জিনিসের আকার, ধরন, মাপ এগুলি সম্পর্কে ঠিক মতো ধারণা তৈরি হলে, শিশুদের শেখার পরের ধাপ আরও সহজ হয়। ছবির মাধ্যমে দুটি বা তারও বেশি দূরত্ব বোঝানো হয় বাচ্চাদের, কোনটি কাছে-কোনটি দূরে। মূলত এই ধারণা দেওয়াই লক্ষ্য। যেমন-

তাদের মেধার পূর্ণ বিকাশে অক্ষরজ্ঞান নয়, প্রয়োজন স্পষ্ট ধারণা।
তাদের মেধার পূর্ণ বিকাশে অক্ষরজ্ঞান নয়, প্রয়োজন স্পষ্ট ধারণা।

মাপ-জ্ঞান: ছবির সাহায্যে একই রকম দুটি জিনিসের আলাদা মাপের ধারণা দেওয়া হয়।

সংখ্যা-জ্ঞান: একটি গাছে কম ফল, আরেকটিতে হয়ত বেশি। এ ধরনের ছবি বাচ্চাদের দেখিয়ে, ধারণা দেওয়া হয় সংখ্যা সম্পর্কে।

পশুপাখি-জ্ঞান: ছবির মাধ্যমে বাচ্চাদের বিভিন্ন পশু ও পাখি চেনানো হয়।

রঙ-জ্ঞান: ছবি দেখিয়েই কোনটি কোন রঙ, তার ধারণা গড়ে দেওয়া যায় বাচ্চাদের মধ্যে।

গল্প-জ্ঞান: বহুক্ষেত্রে ক্লাসেই বাচ্চাদের গল্প শোনানো এবং তারপর তা থেকে প্রশ্ন করে করে, বহু জিনিস শিখিয়ে দেওয়া যায়।

লাইন-জ্ঞান: সিম্পল লাইন, তা থেকেই নানা অ্যালফাবেট তৈরি করে ফেলার টেকনিকও কিন্তু বাচ্চাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়।

চাপ দিয়ে বা মুখস্ত করিয়ে নয়। বরং মজা করে শিখালেই জিনিসগুলো শিশুদের মনে ভালোভাবে গেঁথে যায়। এটাই বলছে ইউনিসেফের ওই সমীক্ষা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here