যত ভুল ডিওডোরেন্ট ব্যবহারে

দিনভর ঘামের দুর্গন্ধহীন ফুরফুরে অনুভূতির প্রতিজ্ঞা নিয়ে কসমেটিক বাজারে আসে ডিওডোরেন্ট। আন্ডারআর্মে ডিওডোরেন্ট লাগানোর পরও ঘামের উপদ্রব আর দুর্গন্ধ এড়ানো যাচ্ছে না! হয়তো ভাবছেন, প্রতিজ্ঞা মিছে। ডিওডোরেন্ট বা ঘাম প্রতিরোধক যেটাই ব্যবহার করুন না কেন, কীভাবে ও কোন সময়ে ব্যবহার করছেন, তার ওপর নির্ভর করে এর কার্যকারিতা।

অনেকে প্রায় একই ভুল করেন। ভাবেন ডিওডোরেন্ট আর ঘাম নিরোধক এক। দুটোই আলাদা। ঘাম নিরোধক বা অ্যান্টিপারসপিরেন্টে থাকে অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড। সহজ কথায় এটি ঘাম নির্গমন প্রতিরোধ করে। অন্যদিকে ঘামের ব্যাকটেরিয়ার সক্রিয়তার কারণে সৃষ্ট দুর্গন্ধ প্রতিরোধ করে ডিওডোরেন্ট। যাদের খুব বেশি ঘাম হয়, তারা ডিওডোরেন্ট ব্যবহার না করে ঘাম নিরোধক ব্যবহার করুন।

আমরা সাধারণত গোসলের পর ও বাইরে বের হওয়ার আগে ডিওডোরেন্ট লাগিয়ে থাকি। এটি দীর্ঘ সময়ব্যাপী সুগন্ধ ধরে রাখে। ঘাম নিরোধক ব্যবহারের ধরাবাঁধা নিয়ম না থাকলেও দিনের শেষে ব্যবহারের সুফল হলো, এমন সময় ঘাম কম হয়। ত্বকের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে ঘাম নির্গমন বন্ধের প্রস্তুতি নিতে পারে।

ডিওডোরেন্ট আন্ডারআর্মে মাত্র একবার বুলিয়ে নেয়া যথেষ্ট নয়। দুর্গন্ধ এড়াতে আন্ডারআর্মে ভালোভাবে ডিওডোরেন্ট বুলিয়ে নিতে হবে। ঘাম নিরোধকের বেলায় সবগুলো লোমকূপ ঢেকে যায় এমনভাবে লাগাতে হবে। যাদের একজিমা রয়েছে অথবা ত্বক খুব বেশি স্পর্শকাতর, তারা স্কিন ইরিটেশন এড়াতে ডিওডোরেন্ট প্রথমে হাতে লাগিয়ে দেখুন। স্বাভাবিক মনে হলে আন্ডারআর্মে ব্যবহার করুন।

প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ডিওডোরেন্ট ও ঘাম নিরোধক ব্যবহার করে অভ্যস্ত। যদি এমন হয় আপনি সাত-আট বছর একই ঘাম নিরোধক ব্যবহার করছেন, কিন্তু ঘাম প্রতিরোধ হচ্ছে না। তাহলে বুঝতে হবে, দীর্ঘ সময়ে আপনার ঘর্মগ্রন্থির সঙ্গে ঘাম নিরোধকের অভিযোজ্যতা তৈরি হয়ে গেছে। শরীর নিজেই ঘাম নিরোধকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করেছে। তাই বদলে ফেলুন রোজকার ঘাম নিরোধক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here