যে ৫টি শক্তিশালী শব্দ জিতিয়ে দেবে যেকোনো তর্ক!

0
1364
আপনি কি বিতর্কে আগ্রহী? তর্ক করতে ভালোবাসেন, সাথে জিততেও?

বাবা-মায়ের সাথে কথা বলতে বলতে শুরু হয়ে গেল তর্ক? এক্ষেত্রে তো টপিকের কোন অভাবই পড়ে না। তোমার অমুক বন্ধুটি এমন কেন থেকে শুরু করে দেশের আগামী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন যেকোনো কোন কিছু নিয়ে চলতে পারে তর্ক।

পার্টনার বা বন্ধুবান্ধবের সাথে প্রিয় সিরিয়ালের তালিকা নিয়েও বেঁধে যেতে পারে মৌখিক সংঘর্ষ।

তর্ক যে ক্ষেত্রেই হোক না কেন, যার সাথেই হোক না কেন আপনি যখন তর্কে নামবেন তখন সঠিক যুক্তি দিয়ে তর্ক জিতে আসাই তো মূল উদ্দেশ্য, তাই নয় কি? চলুন তাহলে দেখে আসা যাক কি সেই শক্তিশালী শব্দ যা জিতিয়ে দেবে তর্ক যুদ্ধ।

আপনার প্রেমিজ বা তর্কের ভিত্তি কি?

ধরা যাক, আপনার সামনে বসা ব্যক্তিটি অনবরত অভিযোগ করেই চলছে যে পৃথিবীর তামাম পুরুষ জাতি অতি জঘন্য, তাদের মতো নীচ আর দ্বিতীয়টি নেই। আস্তে করে তাকে প্রশ্ন করুন, আপনি যে অভিযোগগুলো করছেন তার ভিত্তি কি? জেনে নিন তার অভিজোগের কারণগুলো।

তার জীবনে হয়তো দু-একবার কোন ঘটনা ঘটেছে যাতে সে পুরুষ জাতির উপর ভরসা হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু তার মানে নিশ্চয়ই এই নয় যে সব ছেলেই খারাপ। কাজেই তার তর্কের ভিত্তি শুনে নিজের বক্তব্যগুলো জোরালভাবে উপস্থাপন করুন।

অসঙ্গত কথা কেন বলছেন?

আপনি যদি কারও সাথে খুব উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর্যায়ে চলে যান, তবে দয়া করে একটু মন দিয়ে তার তর্কের পয়েন্টগুলো শুনুন। অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় তর্কের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারা একই লাইনে থাকতে পারে না। যখনই আপনার চোখে বা কানে কোন অসঙ্গতি ধরা পড়বে সাথে সাথে তাকে থামিয়ে দিয়ে বলুন এই মাত্র আপনি যা বলেন শুরুতে কিন্তু তার ঠিক উল্টোটা বলেছেন।

আপনার এই যুক্তি সঙ্গত আক্রমনে থেমে যাবে প্রতিপক্ষ।

বুঝিয়ে দিন পার্থক্য

আপনার সামনের ব্যক্তিটি হয়তো বলে বসলো চম্পা, “সুচন্দা আর ববিতা তিন বোন একদম একই রকম। তাদের মধ্যে আমি কোন পার্থক্য খুঁজে পাই না”। তখন এই ব্যক্তিকে পার্থক্য বুঝিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আপনার। তিন জন মানুষ কখনই একই রকম হতে পারে না। তিন জন হবে পুরোপুরি তিন রকম। টুকটাক মিল তো কত অজানা অচেনা ব্যক্তির সাথেও থাকে! কাজেই সে যে বিষয়ে তর্কে নেমেছে তার সাথে বাস্তবের পার্থক্যগুলো চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিন।

ভাসা-ভাসা জ্ঞান নিয়ে তর্ক চলে না

আপনি যখন তর্কে নামবেন তখন সঠিক যুক্তি দিয়ে তর্ক জিতে আসাই হবে মূল উদ্দেশ্য
আপনি যখন তর্কে নামবেন তখন সঠিক যুক্তি দিয়ে তর্ক জিতে আসাই হবে মূল উদ্দেশ্য

যার সাথে বাক যুদ্ধে নেমেছেন একটা সময় মনে হতে পারে সে হয়তো ঠিকই বলছে কারণ তার পক্ষ থেকে তার যুক্তি পরিষ্কার। ধরা যাক একটি হিজাবি মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আপনার প্রতিপক্ষ বলছে মেয়েটি তো হিজাব পরাই ছিল, তারপরও তাকে কেন ধর্ষণ করা হল? আর আপনার পয়েন্ট হচ্ছে একটি মেয়ে হিজাব পরুক আর না পরুক, তাকে ধর্ষণ করার অধিকার কে দিল? এ ধরণের তর্কের ক্ষেত্রে যথেষ্ট যুক্তি, জ্ঞান ও উদাহরণ না নিয়ে কথা বলতে না যাওয়াই ভালো। আর প্রতিপক্ষের জ্ঞানের গভিরতা যাচাই করতে চাইলে তাকে বারংবার প্রশ্ন করে তার কাছ থেকে তথ্য আদায় করে নিন।

সাধারণীকরণ করা একেবারেই চলবে না

ধরা যাক, আপনার চোখের সামনে কুমিল্লার অধিবাসী একজন ব্যক্তি অন্য একজনের ব্যাগ ছিনতাই করে দৌড়ে পালাল। তাতে কি একবারের জন্যও প্রমাণ হয় যে কুমিল্লার সব লোক ছিনতাইকারী?

আমাদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা তর্ক শুরুই করে এভাবে যে ও তো বরিশালের মানুষ, পেটের মধ্যে প্যাঁচ তো থাকবেই। কি অদ্ভুত কথা! একটি মানুষের জন্ম কোথায় তা কি কখনও নির্ধারণ করতে পারে যে তার চরিত্র কেমন হবে? কাজেই প্রতিপক্ষের এ জাতীয় সাধারণীকরণের প্রক্রিয়াকে এক কথায় উড়িয়ে দিন, আপনার জয় সুনিশ্চিত।

তথ্যসুত্রঃ অল উইমেন স্টক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here