যোগ দিতে চান “নো পু” আন্দোলনে?

0
247

শ্যাম্পু ছাড়া আমাদের এখন চলেই না। কিন্তু ১৮০০ সালের আগ পর্যন্ত শ্যাম্পুর সাথে কারও তেমন একটা পরিচয় ছিল না বললেই চলে। এরপর কয়েক দশেক পরে যখন শ্যাম্পু আবিষ্কৃত হল, তখনও তার ব্যবহার খুব অল্প সংখ্যক মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তাই বলে কি তখনকার লোকজনের চুল সুন্দর ছিল না?

শ্যাম্পু এখন মোটামুটি সবার অবশ্য ব্যবহৃত প্রসাধনীর তালিকায় স্থান করে নিলেও পৃথিবীতে এমন বেশ কিছু মানুষ আছেন যারা শ্যাম্পুকে টাটা বলে দিয়েছেন চিরদিনের জন্য। তাদের কয়েকজন একত্রিত হয়ে রীতিমতো “নো পু” নামে একটি আন্দোলন শুরু করে দিয়েছেন। এমনকি বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী অ্যাডেলের মতো ব্যক্তিত্বও এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।

নো পু আন্দোলনকারীদের যুক্তি হল শ্যাম্পুতে এমন অনেক ক্ষতিকারক উপাদান থাকে যা চুলকে রুক্ষ করে তোলে ও চুল পড়া বাড়িয়ে দেয়। তাহলে শ্যাম্পু ছাড়া চুল ভালো থাকবে কিভাবে? চলুন দেখে নেয়া যাক তার কিছু পদ্ধতিঃ

তেলের সাথে যুদ্ধ হবে শ্যাম্পু ছাড়াইঃ

আমাদের মাথার ত্বকে প্রাকৃতিকভাবেই তেল উৎপন্ন হয়, একে আমরা সিবাম বলি। এই সিবাম চুলকে স্বাস্থ্যবান ও কন্ডিশন্ড রাখতে সহায়তা করে। অনেকেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন শ্যাম্পু করেন। আর এই শ্যাম্পুতে থাকে বিভিন্ন ক্ষতিকর ক্যামিকেল যা শুধু চুলেরই নয় বরং ত্বকেরও ক্ষতি করে থাকে। এসব শ্যাম্পুর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে সিবাম উলটো চুলের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য নষ্ট করে ফেলে। এথেকে পরিত্রাণ পেতে বেছে নিতে পারেন নো পু পদ্ধতি।maxresdefault (1)

নো পু পদ্ধতির মূল কথা হল শ্যাম্পুর পরিবর্তে প্রাকৃতিক কোন উপাদান দিয়ে চুল পরিষ্কার করা। এক্ষেত্রে বেকিং সোডা, আপেল সাইডার ভিনেগার বা শুধুমাত্র পানি দিয়ে চুল ধোয়ার কোথাও বলেছেন নো পু আন্দোলনের অগ্রদূতরা। মোট কথা, শ্যাম্পুর ক্ষতিকারক উপাদানকে চুলের আশেপাশেও আসতে না দেয়ার লক্ষ্যে তারা ক্যাম্পেইন করেই চলেছেন। এসব প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে অতিরিক্ত সিবাম দূর ঝলমলে চুল পাওয়া যাবে বলে এই আন্দোলনকারীদের সাথে সহমত পোষণ করেছেন অনেক হেয়ার এক্সপার্ট।

চুলের গ্লেসিভাব বজায় থাকবে শ্যাম্পু ছাড়াইঃ

প্রকৃতিগতভাবেই মানুষ সন্দেহপ্রবন। তারা বিশ্বাস করে যে তাদের দৈনন্দিন শ্যম্পু করার প্রক্রিয়াটিই চুলের গ্লেসিভাব বজায় রাখার মূল রহস্য। শ্যাম্পু না করলে চুল তৈলাক্ত ও চটচটে দেখাবে। আসল ব্যাপারটি কিন্তু মোটেও সেরকম নয়।

মাথার তেলগ্রন্থিগুলো যখন টের পায় যে চুল অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়ছে, তখন সে তার ট্রিগার চালু করে বেশি বেশি সিবাম বা তেল নিঃসরণ শুরু করে। তখন চুল তার স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে তেল চিটচিটে হয়ে পড়ে। আর একথা তো সবারই জানা যে শ্যাম্পু বেশি ব্যবহার করলে চুলের শুষ্কতা বাড়তেই থাকে। কাজেই শ্যাম্পুর ব্যবহার বর্জন করে তেলগ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ বন্ধ করা সম্ভব। আর এটি বন্ধ হলেই প্রাকৃতিকভাবে চুলের গ্লেসিভাব বজায় থাকবে।

তবে কৃত্রিমভাবে চুলের গ্লেসিভাব বজায় রাখার জন্য শ্যাম্পুর দ্বারস্থ হলে অচিরেই সাধের চুলগুলো যে শ্যাম্পুর সাথে ধুয়ে মাথার ত্বককে বিদায় জানিয়ে চলে যাবে না, তার কোন নিশ্চয়তা কিন্তু আমরা দিতে পারছি না!maxresdefault (2)

খুশকিমুক্ত চুল পান শ্যাম্পু ছাড়াইঃ

চুলের জন্য সবচেয়ে বিরক্তিকর ও বিব্রতকর জিনিস হল খুশকি। এর জন্য চুলকানি, মাথার ত্বকে ইনফেকশন, ধুলার মতো দৃশ্যমান খুশকির গুড়া আরও কি কি যে সহ্য করতে হয়!

বর্তমান বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয় একটি জিনিস হল অ্যান্টি ড্যানড্রফ বা খুশকি নাশক শ্যম্পু। এই শ্যাম্পুগুলো এতো তীব্র ক্যামিকেল যুক্ত হয় যে তা চুলের গোড়া নরম করে ফেলে ও চুল পড়া বাড়িয়ে দেয়।

মজার বিষয় হল এই বিরক্তিকর খুশকির হাত থেকে বাঁচার উপায় কিন্তু রয়েছে আপনার নিজের রান্নাঘরেই! পানি, বেকিং সোডা বা আপেল সাইডার ভিনেগার খুশকি দূর করতে বেশ কার্যকরী। এছাড়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান যেমন নারিকেল তেল, লেবুর রস, চায়ের তেল, সাদা ভিনেগার, অলিভ অয়েল প্রভৃতি খুশকি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চুলকে সাহায্য করে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুরুতে কয়েকদিন চুল যদি ভালো পরিষ্কার নাও হয়, তেল চটচটে হয় তাও মন খারাপ করা চলবে না। শুরুর দিকে চুল একটু বেশি তৈলাক্ত দেখায়। শ্যাম্পু ছেড়ে দিয়ে ২ থেকে ৬ সপ্তাহ অপেক্ষা করুন। এর মধ্যে দেখবেন আপনার চুল তার অভিযোজন ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে প্রাকৃতিকভাবেই চকচকে হয়ে উঠছে।

সুতরাং আর দেরি করে চুলকে শ্যাম্পুর করালগ্রাসের মুখে না ফেলে বরং চট জলদি ব্যবহার করে ফেলুন চুল পরিষ্কার করার প্রাকৃতিক উপাদানগুলো আর একাত্মতা প্রকাশ করুন নো পু আন্দোলনে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here