রূপচর্চার সর্বরোগের ওষুধ কাঠবাদাম

0
319

কাঠবাদাম খেতে পছন্দ করে না এমন মানুষ খুব কমই আছে। অবসরের একঠোঙা কাঠবাদাম নিয়ে বসে দিব্যি কাটিয়ে দিতে পারেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা!

শুধুমাত্র সুস্বাদু বলেই নয়, এর উপকারি গুণ সম্পর্কে যারা জানেন তারা আরও বেশি করে কাঠবাদাম খান। পেটের যেকোনো সমস্যা হোক বা ডায়েট নিয়ে দুশ্চিন্তা হোক, ক্যান্সার প্রতিহত করার মতো জটিল সমস্যার সমাধান এনে দিতে পারে কাঠবাদাম।

আপনি কি জানেন কাঠবাদাম ফেসিয়াল মাস্ক হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে? না জানলে চলুন দেখে নেয়া যাক কাঠবাদাম নিয়ে এরকম কথাগুলো কতটুকু সত্যি বা আদৌ সত্যি কিনা!almond oil

বডিস্ক্রাব হিসেবে কাঠবাদামঃ

শরীরের মৃত কোষগুলো দূর করে সুস্থ্য সুন্দর ত্বক পেতে ব্যবহার করতে পারেন কাঠবাদাম। শরীরের অভ্যন্তরীণ ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে এটি আপনার ত্বকে এনে দেবে ঔজ্জ্বল্য ও আপনাকে রাখবে ফ্রেশ দীর্ঘ সময় ধরে।

প্যাকটি বানাতে যা যা লাগবে-

  • আধা কাপ কাঠবাদাম
  • ১ টেবিল চামচ মধু
  • ২ টেবিল চামচ লেবুর রস
  • পানি প্রয়োজনমত (ঘন প্যাক তৈরি করতে যতটুকু লাগে)

আধা কাপ খোসা ছাড়ানো কাঠবাদাম ২-৩ ঘণ্টা ধরে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পানি ছেকে নিয়ে বাদামের পেস্ট তৈরি করে নিন। তাৎক্ষনিক বডি স্ক্রাব হিসেবে পুরো শরীরে মেখে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর প্যাকটি ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ফেসস্ক্রাব হিসেবে কাঠবাদামঃ

ফেস স্ক্রাব হিসেবে কাঠবাদাম ব্যবহার করে মুখের শুষ্ক কোষগুলো তুলে ফেলে সজীবতা আনা যায়। শাইনি ত্বক পাওয়ার জন্য এটি খুব ভালো একটা রেসিপি।

প্যাকটি বানাতে যা যা লাগবে-

  • খোসা ছাড়ানো কাঠবাদাম ৭টি
  • দুধ ২ টেবিল চামচ
  • পানি প্রয়োজনমতো

৭-৮টি খোসা ছাড়ানো কাঠবাদাম ২-৩ ঘণ্টা ধরে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পানি ছেকে নিয়ে বাদামের পেস্ট তৈরি করে নিন। প্যাকটিতে ২ টেবিল চামচ দুধ মিশিয়ে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে পারেন।Benefits-Of-Almond-Oil-For-Skin

ফেসমাস্ক হিসেবে কাঠবাদামঃ

পুরো মুখে ফেসমাস্ক হিসেবে যেকোনো উপাদান ব্যবহার করে ত্বকের বেশ কিছু সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি ত্বকের কোয়ালিটি ভালো করা যায়। কাঠবাদামের তৈরি ফেসমাস্ক মুখ ও গলায় মেখে ব্রণ ও শুষ্ক ত্বক থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

প্যাকটি বানাতে যা যা লাগবে-

  • কাঠবাদামের গুড়া ১ টেবিল চামচ
  • ডিমের সাদা অংশ- ১টি
  • লেবুর রস ১ টেবিল চামচ

সবগুলো উপাদান একসাথে মিশিয়ে আধা ঘণ্টা মুখে মেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ডার্ক সার্কেল দূর করতে কাঠবাদামঃ

চোখের নিচের কালো দাগ বা ডার্ক সার্কেল দূর করতে কাঠবাদামের জুড়ি মেলা ভার। কয়েক ফোঁটা কাঠবাদামের তেল চোখের নিচে লাগান। প্রতিদিনের ব্যবহারে ২ সপ্তাহের মধ্যেই কালো দাগ অনেকটাই কমে যাবে। এই তেলটি ত্বকে স্ক্রাব হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।

যা যা লাগবে-

  • কাঠবাদামের তেল ২ টেবিল চামচ
  • চিনি

কাঠবাদামের তেলের সাথে চিনি মিশিয়ে ৫-৬ মিনিট ধরে মুখের কালো দাগগুলোতে ম্যাসেজ করুন। স্বাভাবিক পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ২ ঘণ্টার মধ্যে কোন রকম সাবান ব্যবহার করবেন না। পিম্পল ওঠা বন্ধ করতে ও ত্বককে স্মুথ করতে এটি বেশ কার্যকরী।

হেয়ার প্যাক হিসেবে কাঠবাদামঃ

স্কাল্পের খুশি ও চুলকানি জাতীয় যেকোনো সমস্যায় বেশ উপকারি একটি জিনিস কাঠবাদামের হেয়ার প্যাক। নিয়মিত এই প্যাকের ব্যবহারে স্কাল্পের সমস্যাগুলো দূর করা যেতে পারে।

যা যা লাগবে-

  • কাঠবাদামের গুড়া ১ কাপ
  • টকদই ১/২ কাপ
  • ডিমের সাদা অংশ ১টি

সবগুলো উপকরণ আগের রাতে একসাথে মিশিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে উঠে প্যাকটি মাথায় লাগান। খুশকি ও চুল পড়ার সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

পুষ্টিবিদদের মতে দৈনিক ২৩টি করে কাঠবাদাম খেলে শরীরের অসংখ্য রোগের সাথে মোকাবেলা করা সম্ভব। এখন দেখেলন তো শুধু খাওয়া নয়, রূপচর্চায়ও কাঠবাদাম কতটা কাজে আসতে পারে? কাজেই আপনিও আপনার রূপচর্চার অংশ হিসেবে কাঠবাদাম বেছে নিতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here