শিশুর ঘরে প্রাকৃতিক আবহ রাখুন

শিশুর ঘরে প্রাকৃতিক আবহ রাখুন
শিশুকে বৈচিত্র্যময় পড়ার টেবিল দিন। লাইট ও তার রঙ এবং অবস্থান নির্বাচনেও সতর্ক থাকুন।

তারেক আজিজ

পরিবারের ক্ষুদে সদস্যের ঘরটা হোক একেবারে আলাদা। যত্ন আর ভালোবাসায় সাজানো। শিশু মনের ধরন বুঝে নানা উপকরণে সাজিয়ে দিন মি. জুনিয়রের ঘর। এ কাজে কোমলমতির ইচ্ছাকে প্রাধাণ্য দিন। দেয়ালে থাক তার পছন্দের রঙগুলো। আসবাবগুলোও হোক তার পছন্দের। জুনিয়রের ঘরে পর্যাপ্ত জায়গা ও আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখুন। ঘরেই খেলাধূলার সুযোগ রাখুন এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।

ঘরের দেয়ালই হোক শিশুর রাজ্য। দেয়ালে হালকা নীল, সবুজ কচি পাতা, হলকা বেগুনি বা গোলাপি রঙ্গের ছোয়া থাক। দেয়ালে শিশুর পছন্দের গাছপালা, ফুল, প্রজাপতি, পাখি বা মাছসহ অন্যান্য প্রাণী কিংবা গ্রামের ছবি একে দিন। প্রিয় কার্টুনের ছবিও আঁকতে পারেন। সিলিংটাকে সাজাতে পারেন চাঁদ কিংবা তারা দিয়ে। বিছানার উচ্চতা বেশি না রাখাই ভালো। বিছানার চাদর রংচঙে আর সুন্দর হোক। বিছানায় ছোট বালিশ রাখুন। আলাদা পড়ার ঘর না করে শোবার ঘরের একপাশে পড়ার টেবিল বসিয়ে দিন। পারলে জানালার পাশেই বসান। শিশুর ঘরে প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখুন। শিশুকে বৈচিত্র্যময় পড়ার টেবিল দিন। লাইট ও তার রঙ এবং অবস্থান নির্বাচনেও সতর্ক থাকুন। খেলনাগুলো ঘরের একপাশে রাখুন। ঘরের সঙ্গে বারান্দা থাকলে সেখানে কিছু ফুলের গাছ রাখুন।  

ঘরে উজ্জল আলোর ব্যবস্থা রাখুন। কম আলোয় শিশুর পড়াশোনায় অসুবিধা হতে পারে। ঘরের আসবাব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে নজর রাখুন। কর্ণার অথাবা রাউন্ড আসবাব বসালে শিশু ছোটাছুটি করলেও আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। ঘরের শো’কেস, বুক সেলফ, ওয়ারড্রোব ইত্যাদির উচ্চতা বেশি রাখবেন না। সব কিছুই তার নাগালের ভেতরে রাখুন। তাহলে সে নিজের কাজ নিজে করতে শিখবে। শিশুর ঘরে হালকা সবুজ, ধূসর, গোলাপী ও নীল রঙের সঙ্গে হালকা সবুজ রঙের ফার্নিচার ভালো মানায়। শিশুর ঘরে পর্যাপ্ত ড্রয়ারের ব্যবস্থা রাখুন। তাহলে সে নিজের জিনিস নিজেই গুছিয়ে রাখবে। আত্ননির্ভরশীল হয়ে উঠবে।

শিশুর ঘরে শিশুতোষ ভাব আনুন। ঘরটি যেন তার আপন লাগে। তাহলে শিশু একাকিত্বে পড়বে না। ঘরই তার খেলার সঙ্গী হয়ে উঠবে। পাশাপাশি শিশুর ঘরে প্রাকৃতিক আবহ ধরে রাখুন। এতে তার সৃষ্টিশীলতা বাড়বে।   

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here