শিশুর বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে বাবার সঙ্গ

জঙ্গি নেটওয়ার্কে জড়িয়ে পড়া কোমলমতি তরুণদের বিপথগামী হওয়া ঠেকাতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন এর পাশাপাশি পরিবারের ভূমিকা সবার আগে।পরিবারে বাবা হচ্ছে- এক আকাশ নির্ভরতা আর একরাশ নিরাপত্তার অনুভূতি। এখনকার সময়ে অনেক বাবাই সন্তানদের বন্ধুর মতো, একদম কাছের মানুষ। স্নেহশীল। কর্তব্যপরায়ণ। সন্তানদের সব কাজ ও অকাজের প্রশ্রয়দাতা।এই অনুভূতিটাই সন্তান কে একটা নিরাপত্তা আর নির্ভরতার বোধ দেয়। দেয় আত্মবিশ্বাস। সম্প্রতি আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পিডিয়াট্রিকস প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে -শিশুর সুস্থতা ও দ্রুত বেড়ে ওঠায় বাবার নিয়মিত সঙ্গদানের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
প্রতিবেদনটির সহরচয়িতা এবং অ্যাকাডেমির শিশু ও পারিবারিক স্বাস্থ্যের মনোসামাজিক প্রেক্ষাপট বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ড. মাইকেল ইয়োগম্যান বলেন-সব সমাজেই, বাবারা সন্তানদের সঙ্গে যত বেশি সময় কাটাবেন, ততই ভালো,  ‘এটা শিশুদের জন্য খুবই উপকারি। শিশু লালনপালনে বাবারা ‘অতিরিক্ত’ কেউ নন। মায়েরা যা যা করেন, বাবাদেরও সেগুলো করা দরকার।’
এই গবেষণাসহ সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি গবেষণায় দেখা যায়, একটু বড় বাচ্চাদের সঙ্গে বাবারা নিয়মিত বেশি সময় কাটালে সেই বাচ্চাদের মধ্যে হতাশা ও আচরণগত সমস্যা তুলনামূলকভাবে কম দেখা দেয়। এছাড়াও এ ধরণের মেয়ে সন্তানদের মধ্যে কিশোরী বয়সে গর্ভধারণের প্রবণতা কম থাকে।

ছোট বাচ্চাদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন বাবা। গবেষণাটিতে দেখা গেছে, বাবারা তাদের ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলার সময় নতুন নতুন শব্দ বেশি ব্যবহার করেন।

শুধু তাই নয়, বাবাদের খেলার ধরণও ভিন্ন। ইয়োগম্যান বলেন, ‘প্রচলিত ধারণা হলেও সত্যি, বাবারা তুলনামূলক রুক্ষ ধরণের খেলা খেলে থাকেন সন্তানদের সঙ্গে। তারা ছেলেমেয়েদের নতুন জিনিস করতে ও শিখতে এবং ঝুঁকি নিতে প্রেরণা দেন। যেখানে মায়েরা স্থিরতা এবং নিরাপত্তার অনুভূতি ও শিক্ষা দেন। শিশুর জীবনে দু’টোরই প্রয়োজন রয়েছে।’

তবে গবেষণায় ‘বাবা’ বলতে শুধু জন্মদাতা পিতাকেই নির্দেশ করা হয়নি। ইয়োগম্যান জানান, এখানে ‘বাবা’ বলতে বৃহৎ অর্থে সেই সব সম্পর্ককেই বোঝানো হয়েছে, যারা সত্যি সত্যিই শিশুর বাবা অথবা তার জীবনে বাবার জায়গা নিয়ে সেই ভূমিকাগুলো পালনের সুযোগ রাখেন। তিনি হতে পারেন শিশুর দাদা, নানা, চাচা, মামা, বড় ভাই বা এমন কেউও, যিনি শিশুর সঙ্গে একসঙ্গে বসবাস করেন না। তাই আপনার সন্তান কে সঙ্গ দিন কেননা বাবারসঙ্গ পাওয়া সন্তানরাই জানবে, বাবা মানে মাথার ওপর শীতল কোমল ছায়া। বাবা মানে ডালপালা মেলা এক বিশাল বটবৃক্ষ। ধুম বৃষ্টিতে বা তীব্র জ্বালাময় রোদে বাবা সন্তানের কাছে শান্তিদায়ক ছাতা। ঘুটঘুটে অন্ধকারে পথ দেখানো আলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here