শিশু নির্যাতনের প্রভাব বড় হয়েও দেখা দিতে পারে

মানসিক কিংবা শারীরিক যেকোনো ধরনের নির্যাতনই শিশুদের ভবিষ্যতের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

যেকোনো ধরনের নির্যাতন যেকোনো বয়সী মানুষের জন্যই ক্ষতিকর। নিগ্রহ বা নির্যাতন সার্বিকভাবে মানুষের মনোজগতের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তবে শিশুদের ওপর এর প্রভাব পড়ে আরো বেশি। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা শৈশবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, ভবিষ্যৎ জীবনে তারা নানা স্বাস্থ্য সংকটে ভোগে। একই সঙ্গে তাদের জীবনযাপনের মানও অন্যদের তুলনায় নিম্ন হয়। খবর বিবিসি।

আমরা বুঝে বা না বুঝেই নানাভাবে শিশুদের নির্যাতন করি। হয়তো কখনো শাসন করতে গিয়েই তাদের ওপর তৈরি করে ফেলি ব্যাপক মানসিক চাপ। অনেক শিশু আবার ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ওই গবেষক দল বলছে, মানসিক কিংবা শারীরিক যেকোনো ধরনের নির্যাতনই শিশুদের ভবিষ্যতের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। আর এ প্রভাব দেখা দিতে পারে নির্যাতিত হওয়ার বহু দশক পরও।

এ গবেষণার জন্য গবেষক দল ১৯৫৮ সালে জন্ম নেয়া ৮ হাজার ৭৬ জন মানুষের ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ওই গবেষক দল বলছে, মানসিক কিংবা শারীরিক যেকোনো ধরনের নির্যাতনই শিশুদের ভবিষ্যতের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।
শৈশবে অবহেলিত কিংবা নির্যাতিত শিশুরা ভবিষ্যৎ জীবনে আর্থসামাজিক সংকটে পড়ে।

এতে তারা দেখতে পান, এদের মধ্যে যারা শৈশবে নির্যাতনের শিকার হয়েছিল, তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অসুখে ভোগার হার যারা নির্যাতিত হয়নি তাদের চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে আবার যারা একের অধিক ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছিল, তাদের এ হার আরো বেশি।

ইউএস জার্নাল পেডিয়াট্রিকসে প্রকাশিত এ গবেষণা আরো বলছে, শিশুরা অবহেলা কিংবা নিগ্রহের শিকার হলে তা ভবিষ্যতে বহু দশক পরও তাদের আর্থসামাজিক জীবনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। তারা বলেন, নানাভাবে অবহেলিত ও নির্যাতনের শিকার শিশুদের মধ্যে পড়তে পারা এবং গাণিতিক সমস্যা সমাধানে ঘাটতি দেখা যায়, যা ভবিষ্যতে তাদের কর্মক্ষেত্রে সমস্যায় ফেলে; যার প্রভাব তাদের জীবনমানের ওপরও পড়ে বলে জানান গবেষকরা।

গবেষক দলের প্রধান ইউসিএল গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথের ড. পিন্টো পেরেইরা বলেন, ‘আমাদের গবেষণা এটাই দেখাচ্ছে যে, শৈশবে অবহেলিত কিংবা নির্যাতিত শিশুরা ভবিষ্যৎ জীবনে আর্থসামাজিক সংকটে পড়ে।’ তিনি বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এতে এসব মানুষ ভীষণ স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগে। একই সঙ্গে তাদের সন্তানদের ওপরও এর প্রভাব পড়ে। ফলে নিগ্রহের শিকার শিশুদের প্রতি আরো খেয়াল রাখা এবং সেই সঙ্গে শিশু নিগ্রহ বন্ধে সবার এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

1 COMMENT

  1. It is the best time to make some plans for the future and it
    is time to be happy. I have learn this post and if I may just
    I want to counsel you few interesting issues or suggestions.

    Perhaps you can write next articles regarding
    this article. I wish to learn even more issues about it!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here