শীতে গাছকে যেভাবে খুশি রাখতে হয়

গাছের পাতাগুলো আলতো করে জল দিয়ে ধুয়ে অথবা টিস্যু বা ন্যাপকিন দিয়ে মুছে দিতে পারেন।

শীত চলে এসেছে। সকাল ও রাতে হিম হিম একটা ভাব টের পাওয়া যায়। শীতের সময় চারপাশের প্রকৃতি দ্রুত বদলে যায়। তাই এ সময় আপনার দরকার একটু বাড়তি যত্ন। শুধু আপনার একার নয়, শীতে সবকিছুরই একটু অন্য রকম খেয়াল রাখার প্রয়োজন হয়। এই যেমন ধরুন, অনেকেই হয়তো ঘরের অন্দরে শখ করে গাছ লাগিয়েছেন। শীতে যে এসবেরও একটু ভিন্ন রকম দেখভাল প্রয়োজন, সেটা জানেন কি? জেনে নিন কীভাবে শীতকালে আপনার ঘরের গাছগুলোর যত্ন নেবেন—

শীতে গাছের ডায়েট

হয়তো জেনে অবাক হবেন, অনেক পশুপাখির মতো ঘরে লাগানো গাছপালাও সাধারণত শীতের সময়টা কাটায় ঘুমিয়ে। অবশ্য আমাদের দেশে যেহেতু অতটা বেশি শীত পড়ে না তাই এখানকার বাড়িতে লাগানো গাছগুলো পুরোপুরি শীতনিদ্রায় যায় না। কিন্তু তবুও শীতকালে এসব গাছের খাবারের দরকার গরমের তুলনায় অনেক কম হয়। আপনি কোনো গাছে গরমের সময় যতটা পানি দেন, শীতেও যদি তাই দেন তবে অনেক গাছই মারা যাবে। কারণ শীতের সময় অন্দরের প্রায় ৯৫ শতাংশ গাছেরই অনেক কম পরিমাণে পানির দরকার হয়। শীতে আপনার গাছের গোড়ার মাটি ২৪ ঘণ্টা ভেজা রাখার কোনো দরকার নেই, বরং গাছের টবের মাটি একেবারে মূল পর্যন্ত শুকিয়ে যাওয়ার পরেই আবার নতুন করে পানি দেবেন। তা না হলে গাছের গোড়ায় পানি জমে থেকে গাছের শিকড়ে পচন ধরার সম্ভাবনা আছে। অবশ্য গাছে কদিন পরপর পানি দেবেন সেটা অনেকটাই নির্ভর করে আপনার বাড়ির ভেতরকার আবহাওয়া কতটা আর্দ্র তার ওপর। যদি ঘরের আর্দ্রতা বেশি হয়ে থাকে তবে আপনার গাছগুলোতে একবার পানি দিলেই সেটা দুই সপ্তাহ থেকে এক মাস পর্যন্ত চলবে। আপনার বাসার ভেতরতা যদি বেশি শুষ্ক হয়ে থাকে তবে গাছে আরেকটু ঘন ঘন পানি দিতে হবে আপনাকে। গাছের পানি দরকার কিনা সেটা বোঝাটা অবশ্য বেশ সহজ। গাছের পটটা হাতে উঠিয়ে দেখুন। যদি পটটা বেশি হালকা মনে হয় তবে কোনো সিঙ্ক বা গামলায় কয়েক ইঞ্চি পানি ভরে পটটা তাতে বসিয়ে রাখুন। পটের মাটি এর নিচের ফুটো দিয়ে বেশ খানিকটা পানি শুষে নেবে। কিছুক্ষণ পরে যখন পটটা আগের থেকে বেশি ভারী মনে হবে তখন পটটা উঠিয়ে কিছুর উপর পানি ঝরাতে রাখুন। বাড়তি পানি ঝরে গেলে পরে গাছ আগের জায়গায় রেখে দিন, গাছের পট আবারো হালকা লাগার আগে আর গাছে পানি দেবেন না। যখন দেখবেন শীত পেরিয়ে আশপাশের প্রকৃতি জেগে উঠছে তখনি নিজের ঘরের গাছপালাকে আবার আগের মতো সার, পানি দেয়া শুরু করবেন।

তবে সব গাছের জন্য আবার এই নিয়ম কার্যকর নয়, যেমন ধরুন লেবু বা এজাতীয় রসালো ফলের গাছের জন্য একটু বেশিই পানির প্রয়োজন হয়। তাই এসব গাছের গোড়ার মাটি সবসময়েই ভেজা রাখাটা আবশ্যক। আপনার গাছের জন্য কী রকম পানি দরকার সে ব্যাপারে নিশ্চিত না হতে পারলে ঝটপট ইন্টারনেটে খুঁজে দেখতে পারেন।

গাছের সঠিক যত্ন নিতে চাইলে নিশ্চিত করুন যে আপনার গাছ পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো পাচ্ছে।
গাছের সঠিক যত্ন নিতে চাইলে নিশ্চিত করুন যে আপনার গাছ পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো পাচ্ছে।

বেশি বেশি আলো

পানি কম লাগে বলেই যে শীতের সময় গাছের আলোও কম লাগবে এমনটা কিন্তু নয়। বরং এই সময় টিকে থাকার জন্য গাছের যথেষ্ট পরিমাণে আলোর প্রয়োজন হয়। আর শীতের সময় যেহেতু বাইরে আলোর পরিমাণটা কিছুটা কমে যায় তাই এ সময় গাছের সঠিক যত্ন নিতে চাইলে নিশ্চিত করুন যে আপনার গাছ পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো পাচ্ছে। আপনার বাসার গাছগুলো যদি কোনো কাচের জানালার পাশে রাখা থাকে তবে জানালার কাচ ভেতর ও বাহির দুদিক থেকেই পরিষ্কার করুন। যাতে করে আপনার গাছ প্রচুর পরিমাণে আলো পায়। চাইলে ঘর থেকে বের করে গাছ বারান্দায়ও রাখতে পারেন যাতে তাতে বেশি করে রোদ লাগে।

গাছের পাতা যদি একটু খসখসে ও ভারী ধরনের হয়ে থাকে (যেমনটা স্ন্যাক প্লাণ্টগুলোর পাতা হয়ে থাকে) তবে শীতের সময় তাতে ধুলা জমে যেতে পারে। ফলে গাছের আলো শোষণে বাধার সৃষ্টি হয়। তাই গাছের পাতাগুলো আলতো করে জল দিয়ে ধুয়ে অথবা টিস্যু বা ন্যাপকিন দিয়ে মুছে দিতে পারেন। এতে করে আপনার গাছের পোকামাকড়ও দূর হবে।

লিখেছেনঃ অনন্যা দাস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here