শুভ সকাল

পথের পাঁচালী দেখেই সুভাষ দত্ত চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুপ্রাণিত হন।

শুভ সকাল

صباح الخير

Good Morning

আজ  বৃহস্পতিবার

২৭ মাঘ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ

১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী

৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ

এখন শীতকাল

আবহাওয়া

আজ অস্থায়ীভাবে আকাশ আংশিক মেঘলাসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুস্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৫ টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৬ টা ৩৫ মিনিটে।

নামাজের সময়:

আজ ফজর শুরু ভোর ৫ টা ২০ মিনিটে, জোহর শুরু ১২ টা ১৬ মিনিটে, আছর শুরু বিকেল ৪ টা ১৩ মিনিট, মাগরিব শুরু ৫ টা ৫৩ মিনিটে, এশা শুরু সন্ধ্যা ৭ টা ৮ মিনিটে।

আগামীকাল শুক্রবার  ফজর শুরু ভোর ৫ টা ২০ মিনিটে।

সূত্র- ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

আজকের আয়োজন

মঞ্চ

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি

চেখব স্টুডিও থিয়েটারের বাংলাদেশ নাট্যভ্রমণ: নাটক ‘চেখব ও গাংচিল’ মুক্তাঙ্গন ও

জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে সন্ধ্যা ৫ টায়।

প্রদর্শনী

বেঙ্গল আর্টস প্রিসিন্কট

‘এপিমেরাল: পেরেনিয়াল’ শীর্ষক প্রদর্শনী দুপুর ১২ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত।

চলচ্চিত্র

স্টার সিনেপ্লেক্স

‘ভালবাসা এমনই হয়’ সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ও বিকেল ৪ টা ২০ মিনিটে।

‘আয়নাবাজি’ (টুডি) দুপুর ১ টা ৩০ মিনিট ও  সন্ধ্যা  ৭ টা ১০ মিনিট।

‘দ্য গ্রেট ওয়াল’ বেলা ২ টা ও সন্ধ্যা ৭ টা ২০ মিনিটে।

‘রিটার্ন অব এক্সজ্ন্ডার কেজ’ বেলা ১১ টা ২০ মিনিট, বেলা ১ টা ৫০মিনিট, দুপুর ২ টা ১০ মিনিট, বিকেল ৪ টা ১০ মিনিট ও সন্ধ্যা ৭ টায়।

‘মোয়ানা’ বেলা ১১ টা ১০ মিনিট ও বিকেল ৪ টায়।

ব্লকবাস্টার সিনেমাস

আয়নাবাজি’ (টুডি) বিকেল ৪ টা ৫০ মিনিটে।

‘রিটার্ন অব এক্সজ্ন্ডার কেজ’ বেলা ১২ টা , দুপুর ২ টা ১০ মিনিট, বিকেল ৪ টা ২০ মিনিট, ৫ টা ১০ মিনিট ও সন্ধ্যা ৭ টায়।

‘দ্য গ্রেট ওয়াল’ দুপুর ২ টা ৫০ মিনিট ও বিকেল ৫ টা ২৫ মিনিটে।

‘লালা ল্যান্ড’ দুপুর ২ টা, ২ টা ৪০ মিনিট ও সন্ধ্যা ৭ টা ৩৫ মিনিট।

আজ ৯ ফেব্রুয়ারি এই বরেণ্য চলচ্চিত্রকারের জন্মবার্ষিকী।
আজ ৯ ফেব্রুয়ারি এই বরেণ্য চলচ্চিত্রকারের জন্মবার্ষিকী।

পোস্টার ডিজাইনার থেকে শিল্পের কিংবদন্তি

তার হাত ধরেই এ দেশের চলচ্চিত্র পেয়েছিলো নির্মাণের ভিন্নতা ও বৈচিত্র। অভিজ্ঞতার ঝুলির ওজন বাড়িয়ে তিনি একাধারে দায়িত্ব পালন করেছেন চলচ্চিত্রের প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা, চলচ্চিত্র চিত্রশিল্পী, চিত্রনাট্যকার ও শিল্প নির্দেশক হিসেবে। বলছি ঢাকাই ছবির কিংবদন্তি সুভাষ দত্তের কথা।

আজ ৯ ফেব্রুয়ারি এই বরেণ্য চলচ্চিত্রকারের জন্মবার্ষিকী। ১৯৩০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের মুনশিপাড়ায় মামার বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন এই অসামান্য প্রতিভা। ২০১২ সালের ১৬ নভেম্বর বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগে পরলোকে যাত্রা করেন তিনি।

সুভাষ দত্তের পৈতৃক বাড়ি বগুড়া জেলার চকরতি গ্রামে। বসবাস করতেন ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের নিজ বাড়িতে। স্ত্রী সীমা দত্ত ২০০১ সালের অক্টোবরে প্রয়াত হন। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।

১৯৫৭ সালে ভারতের হাইকমিশনের উদ্যোগে একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে ওয়ারীতে। সেখানে দেখানো হয় সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালী চলচ্চিত্রটি। পথের পাঁচালী দেখেই তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুপ্রাণিত হন।

তবে আজকালকার নির্মাতাদের মতো ষাটের দশকে চলচ্চিত্রে কাজ করাটা অতো সহজ ছিলো না। স্বভাবতই সুভাষ দত্তকে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে আসতে হয়েছে কিংবদন্তির রাজপথে। তিনি কর্মজীবন শুরু করেন ভারতের বোম্বেতে। সেখানে পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে একটি ছায়াছবির পাবলিসিটির স্টুডিওতে মাত্র ত্রিশ টাকা মাসিক বেতনে কাজ শুরু করেন। ১৯৫৩ সালে ভারত থেকে ঢাকায় ফিরে যোগ দেন প্রচার সংস্থা এভারগ্রিনে।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে সুভাষ দত্তের কর্মজীবনের শুরু হয়েছিল চলচ্চিত্রের পোnস্টার এঁকে। এ দেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’র পোস্টার ডিজাইনার ছিলেন তিনি। মাটির ‘পাহাড়’ চলচ্চিত্রে আর্ট ডিরেকশনের মধ্যে দিয়ে তার পরিচালনা জীবন শুরু হয়।

এরপর তিনি এহতেশাম পরিচালিত ‘এ দেশ তোমার আমার’ ছবিতে প্রথম অভিনয়ের সুযোগ পান। আর পরিচালক হিসেবে অভিষিক্ত হন চলচ্চিত্র ‘সুতরাং’ (১৯৬৪) দিয়ে। প্রধান অভিনেতা হিসেবে তিনি অভিনয় করেন সেই সময়কার নবাগতা অভিনেত্রী কবরীর বিপরীতে। এটি বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সম্মাননা লাভ করেছিল।

১৯৬৫ সালে ফ্রাঙ্কফুর্ট চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সুতরাং’ দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কার লাভ করে। এ ছাড়া মস্কো চলচ্চিত্র উৎসব (১৯৬৭, ১৯৭৩ ও ১৯৭৯) ও নমপেন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (১৯৬৮) পুরস্কৃত হয়েছে সুভাষ দত্তের চলচ্চিত্র। ১৯৭৭ সালে ঘোষিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-এ তার প্রযোজনা-পরিচালনার ‘বসুন্ধরা’ চলচ্চিত্রটির জন্য সেরা পরিচালক ও প্রযোজকসহ মোট পাঁচটি পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত একুশে পদকে ভূষিত হন।

তবে সুভাষ দত্তের জীবনের সেরা অর্জন তিনি একজন শিল্পী গড়ার কারিগর হিসেবে ঢাকাই ছবিতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তার হাত ধরেই চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে কবরী, সুচন্দা, উজ্জল, শর্মিলী আহমেদ, ইলিয়াস কাঞ্চন, আহমেদ শরীফ ও মন্দিরার।

সুভাষ দত্তের জীবনের সেরা অর্জন তিনি একজন শিল্পী গড়ার কারিগর
সুভাষ দত্তের জীবনের সেরা অর্জন তিনি একজন শিল্পী গড়ার কারিগর

সেইসাথে বিভিন্ন সময় তিনি নির্মাণ করেছেন অসংখ্য দর্শক নন্দিত চলচ্চিত্র। তারমধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ ও ১৯৭৭ সালে আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস ২৩ নম্বর তৈলচিত্র অবলম্বনে ‘বসুন্ধরা’ চলচ্চিত্র দুটি আজও চলচ্চিত্র সমালোচকদের আলোচনার বিষয়। সত্তর দশকের শেষের দিকে ড. আশরাফ সিদ্দিকীর লেখা গল্প ‘গলির ধারের ছেলেটি’ অবলম্বনে তিনি নির্মাণ করছিলেন ‘ডুমুরের ফুল’ চলচ্চিত্র।

পাশাপাশি রাজধানীর বুকে, সূর্যস্নান, তালাশ, রূপবান, মিলন, নদী ও নারী, ভাইয়া, ক্যায়সে কাহু, আখেরি স্টেশন, সোনার কাজল, দুই দিগন্ত, সমাধান প্রভৃতি ছবিতে অভিনেতা এবং কাগজের নৌকা, আয়না ও অবশিষ্ট, আবির্ভাব, বলাকা মন, সবুজ সাথী, সকাল সন্ধ্যা, ডুমুরের ফুল, নাজমা, স্বামী স্ত্রী, আবদার, আগমন, শর্ত, সহধর্মিণী, সোহাগ মিলন, পালাবদল, আলিঙ্গন, বিনিময়, আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি ছবিতে পরিচালক হিসেবে সুভাষ দত্তের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে রইবে। তাঁকে  জানাই আন্তরিকভাবে সশ্রদ্ধ সম্মান, ভালোবাসা..

সূত্রঃ জাগো নিউজ 24.কম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here