সন্তানের ক্যারিয়ার প্ল্যানিং

কোন বিষয় বেছে নিলে আপনার সন্তানের ইচ্ছা পূরণ হবে আবার ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রও থাকবে নিশ্চিত, এসব বিষয় নিয়ে মা হিসেবে ভাবতে হবে আপনাকেই—

বয়ঃসন্ধির সময়ে সন্তানকে ক্যারিয়ার নির্বাচনে সাহায্য করা অভিভাবকের একান্ত কর্তব্য। আর এসব ক্ষেত্রে মায়ের দায়িত্ব যেন একটু বেশিই। ধরা যাক, আপনার সন্তানের অষ্টম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা শেষ হয়েছে। নবম শ্রেণী থেকেই গ্রুপভিত্তিক শিক্ষা। এবার বেছে নিতে হবে পছন্দের বিষয়টি। বিজ্ঞান, মানবিক নাকি ব্যবসা শিক্ষা? কোন বিষয় বেছে নিলে আপনার সন্তানের ইচ্ছা পূরণ হবে আবার ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রও থাকবে নিশ্চিত, এসব বিষয় নিয়ে মা হিসেবে ভাবতে হবে আপনাকেই—

আপনার করণীয়

দেখবেন শিশুদের যদি প্রশ্ন করা হয়, সে বড় হয়ে কী হতে চায়, তাহলে তারা নানা রকম পেশার কথা বলে। কেউ বড় হয়ে শিক্ষক হতে চায়, কেউ চিকিৎসক আবার কেউ মাশরাফি বা সাকিবের মতো ক্রিকেটার হতে চায়। কেউ কেউ ছোটবেলার এই লক্ষ্য পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়ন করে। কেউ বেছে নেয় সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশা। কিন্তু অভিভাবক হিসেবে আপনার দায়িত্ব সন্তানের ভালো লাগা, ইচ্ছা, আগ্রহের খোঁজ রাখা। সন্তান সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগলে সঠিক ক্যারিয়ার অপশন বেছে নিতে আপনাকেই সাহায্য করতে হবে।

সন্তান ক্লাস ফাইভের গণ্ডি পেরোনোর পর থেকে একাডেমিক দুর্বলতা ও সবলতার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখা শুরু করুন। এছাড়া কোনো এক্সট্রাকারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজে ওর আগ্রহ আছে কিনা, রেজাল্টের গড় এবং কোন ক্ষেত্রে সে পুরস্কার বা সম্মাননা জিতছে, সবকিছুর একটা সামগ্রিক ধারণা আপনার থাকতে হবে।

অষ্টম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষার পর ওকে প্রশ্ন করুন পরবর্তী পর্যায়ে ও কী নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চায়। সেই উচ্চশিক্ষার জন্য ও দেশের বাইরে যেতে চায়, নাকি দেশে থেকেই লক্ষ্য পূরণ করতে চায়, সেই ব্যাপারেও পরিষ্কারভাবে আলোচনা করে নিন। তাহলে পরে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হবে না।

ক্যারিয়ার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হলে ক্যারিয়ার কাউন্সেলরের গাইডেন্সও নেয়া যেতে পারে।

ক্যারিয়ার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হলে ক্যারিয়ার কাউন্সেলরের গাইডেন্সও নেয়া যেতে পারে।
ক্যারিয়ার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হলে ক্যারিয়ার কাউন্সেলরের গাইডেন্সও নেয়া যেতে পারে।

ইন্টারনেট থেকেও নিজেদের আপডেট করতে পারেন। কোন কোন ক্ষেত্রে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে, নতুন কী নিয়ে পড়াশোনা করা যেতে পারে, কোথায় কী স্কলারশিপ পাওয়া যায়, এসব তথ্য আপনি অনায়াসেই ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। নেটে এসব তথ্য ব্রাউজ করার সময় সন্তানকে পাশে রাখুন।

খেয়াল রাখুন সন্তান যে দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে সে কতটা স্বনির্ভর হতে পারবে।

ক্লাস নাইনেই ওকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে খণ্ডকালীন কাজ করতে উৎসাহ দিন। এতে ওর কাজের অভিজ্ঞতা বাড়বে এবং সিভিও সমৃদ্ধ হবে। যা ওকে পরবর্তী সময়ে করপোরেট জগতে মানিয়ে নিতে সহযোগিতা করবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here