স্কুলগুলোতে শুরু হয়েছে শিশুদের জন্য ভূমিকম্প প্রস্তুতি ও মহড়া

0
111

বলা নেই, কওয়া নেই হঠাৎ হঠাৎ করে মুহুর্মুহু কেঁপে উঠছে গোটা দেশ। গত চারবছর ধরে বাংলাদেশ বারবার ভূমিকম্পের মুখোমুখি হয়েছে৷ আর এ মুহূর্তে একটা বড় ধরনের ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ৷ রিখটার স্কেলে একটি ৯ মাত্রার ভূমিকম্প বাংলাদেশে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ তাই সার্বিক প্রস্তুতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভূমিকম্প প্রস্তুতির বিশেষ প্রকল্পের কাজ চলছে বাংলাদেশে৷
সর্বশেষ ঢাকার অদূরে সাভারের ইয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ রকমই একটি ভূমিকম্প প্রস্তুতির মহড়া অনুষ্ঠিত হয়৷ সেই মহড়ায় স্কুলের ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটু গেঁড়ে বেঞ্চের নীচে বসে পড়ে ১৫ বছরের এক শিক্ষার্থী লাকি আখতারও৷ এরপর দ্বিতীয় ঘণ্টা বাজতেই বই ও ব্যাগ মাথায় নিয়ে আরও ৩০ জন শিক্ষার্থীসহ সে ক্লাস থেকে বেরিয়ে আসে৷
সাভারের ইয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেওয়ান মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার বলেন, ‘‘গত তিনবছর ধরে প্রতিবছরই অন্তত একবার করে ভূমিকম্প হচ্ছে৷ চলতি বছর আমরা দু’বার কম্পন অনুভব করেছি৷”
তিনি বলেন, ‘‘একবার স্কুল চলাকালেই এ ধরনের কম্পন অনুভূত হয়েছিল৷ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে তখন৷ সোজা দৌড়ে শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে যায় অনেকেই৷ এরপর থেকে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে৷”
ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার এমনিতেই ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ৷ ‘নেচার জিও সায়েন্স’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়ে, বাংলাদেশে ৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে জনগণের একটা বড় অংশ ঝুঁকির মুখে পড়বে৷
তাই ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ইতিমধ্যেই নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, হচ্ছে৷201102241723300318

দুর্যোগ প্রস্তুতি নিয়ে বাংলাদেশে কাজ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবিক সাহায্য ও নাগরিক সুরক্ষা কার্যক্রম৷ তারা বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে৷ এর বাস্তবায়নে ২০১৫ সালের মে মাস থেকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছে ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’।
বাংলাদেশ এরইমধ্যে ৮৪টি প্রাথমিক এবং ৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মহড়া সম্পন্ন করেছে৷ এ সংক্রান্ত একটি ‘গাইডলাইন’ চূড়ান্ত করতেও কাজ করছে সরকার৷ প্রায় ৬৬ হাজার প্রাথমিক এবং ৩২ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের মহড়া পরিচালনা করাই এই গাইডলাইনের লক্ষ্য৷
মূলত টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে ভূমিকম্প হয়৷ আর বাংলাদেশ এ ধরনের তিনটি প্লেটের মধ্যে অবস্থিত৷ ভারতীয়, ইউরেশীয় ও মিয়ানমারে টেকটনিক প্লেটের মধ্যে অবস্থান করছে দেশটি৷ বাংলাদেশের নীচে জমে ওঠা টেকটনিক প্লেটে চাপ পড়ছে কম করে বিগত ৪০০ বছর ধরে৷ তাই যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো মাত্রার ভূমিকম্পের জন্য সবাইকে প্রস্তুত রাখার বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here