হাতখরচ জোগাতে খণ্ডকালীন কয়েকটি পেশা, নিজ দক্ষতা ও পারদর্শিতা!

হাতখরচ জোগাতে খণ্ডকালীন কয়েকটি পেশা, নিজ দক্ষতা ও পারদর্শিতা!

নিজের ব্যক্তিগত কাজের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য যে ধরনের কাজ করা হয়, মূলত তা-ই পার্টটাইম জব বা খণ্ডকালীন চাকরি। সময়ের পালাবদলে আমাদের দেশেও খণ্ডকালীন কাজের ক্ষেত্র দিন দিন বাড়ছে।
আজ-কাল দূর-দূরান্ত থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ঢাকার সরকারী বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছেন অনেকেই। একটি বা দুটি সেমিস্টার শেষ করেছেন কিন্তু বাড়ির বাইরে অর্থাৎ হোস্টেলে থেকে সরকারী বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করায় মাসিক খরচ খাতে উঠে যায় বড় একটা অংক। পরিবার থেকে যে টাকা আসে, তা দিয়ে মোটামুটি চলে গেলেও টান পড়ে কখনো কখনো। তাছাড়া ক্লাসের পরও আপনার হাতে কিছু সময় থাকে। সে সময়টুকু কাজে লাগাতে ও হাতখরচের জোগান দিতে প্রায়ই  জব ওয়েবসাইটগুলো ঘাঁটেন, যদি পাওয়া যায় পছন্দসই খণ্ডকালীন পেশার খোঁজ! আপনার মতো বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক ছাত্রছাত্রী রয়েছেন, যারা খুঁজছেন উপযোগী খণ্ডকালীন পেশা। দু-একটি ছাড়া খণ্ডকালীন পেশা খুব সহজেই পাওয়া যাবে এমন না হলেও খোঁজখবর নেয়ার সময় নিজ দক্ষতা ও পারদর্শিতা বুঝে মাথায় রাখা যেতে পারে কয়েকটি পেশার কথা—

ডাটা এন্ট্রি

খণ্ডকালীন পেশা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেছে নিতে পারেন ডাটা এন্ট্রিকে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ দেয়া হয়। বাংলা ও ইংরেজি টাইপিংয়ে দক্ষ হলে সরাসরি বা অনলাইনে এ পেশায় নিয়োজিত হতে পারেন। অনলাইনের একটি সুবিধা রয়েছে, তা হলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ ই-মেইলে পাঠিয়ে দিলেই হয়, সেক্ষেত্রে বাড়িতে বসে বা সময়-সুবিধামতো যেকোনো স্থানে কাজ করার সুযোগ থাকে। এখানে ফাইলের সংখ্যা অনুযায়ী পারিশ্রমিক দেয়া হয়।

কল সেন্টার

যারা বহির্গামী, কর্মক্ষম ও গুছিয়ে কথা বলেন, তাদের জন্য স্মার্ট পছন্দ হতে পারে কল সেন্টার বা কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস। সেক্ষেত্রে ভালো বাংলা ও ইংরেজি বলতে পারা, ধৈর্য, একসঙ্গে কয়েকটি কাজ করতে পারার দক্ষতা ও কম্পিউটার সম্পর্কে ভালো অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

খণ্ডকালীন পেশা হিসেবে টিউশনিকে বেছে নেন অনেকেই।
খণ্ডকালীন পেশা হিসেবে টিউশনিকে বেছে নেন অনেকেই।

প্রাইভেট টিউটর

খণ্ডকালীন পেশা হিসেবে টিউশনিকে বেছে নেন অনেকেই। হাতখরচ মেটাতে সময় বের করে টিউশনি করতে পারেন। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ইংরেজি, গণিত, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞাস এসব বিষয়ে মূলত টিউশনির প্রয়োজন পড়ে। নিজের দক্ষতা অনুযায়ী বিষয় নির্বাচন করে টিউশনি শুরু করতে পারেন।

টুরিস্ট গাইড

ভ্রমণপিপাসু মানুষের বেড়ানোকে আরও সুন্দর করে তোলার জন্য পর্যটন সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছে। পর্যটকদের স্থানগুলো সম্পর্কে ধারণা দিতে তারা খণ্ডকালীন টুরিস্ট গাইড নিয়োগ করে। পর্যটকদের ঘুরিয়ে দেখানো, পরামর্শ দেওয়া, সাবধান করা, সচেতন করা, তাঁদের ছবি তোলাসহ নানা ধরনের কাজ করতে হয়। এ পেশায় যেকোনো পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার দক্ষতা থাকতে হবে। থাকতে হবে একাধিক ভাষার ওপর দখল। যাঁরা টুর গাইড হিসেবে কাজ করতে চান, তাঁদের প্রধানত ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় দক্ষ হতে হবে। এ কাজে বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের মুখোমুখি হতে হবে। তাঁদের সবকিছু সুন্দরভাবে বোঝানোর দক্ষতা থাকতে হবে। স্মার্ট ও শিক্ষিত তরুণেরা এই পেশায় ভালো করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যটনস্থল সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকতে হবে।

সেলস এক্সিকিউটিভ।
সেলস এক্সিকিউটিভ।

সেলস এক্সিকিউটিভ

কোনো প্রদর্শনীর সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কয়েক দিনের জন্য খণ্ডকালীন পেশায় নিয়োজিত হতে পারেন। সেক্ষেত্রে পণ্য সম্পর্কে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের বর্ণনা করতে হবে।

ক্যাশিয়ার অথবা অ্যাকাউন্ট্যান্ট

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বড় শোরুম ও সুপারমার্কেটে এক বা একাধিক ক্যাশিয়ারের প্রয়োজন থাকে সবসময়ই। শিফট করে সকাল বা বিকালে কাজ নির্ধারণ করে দেয়া হয়। নিজের সময় ও চাহিদা বুঝে বেছে নিতে পারেন এ ধরনের খণ্ডকালীন পেশা।

সৃজনশীল কাজ

আপনি যদি নাচ, গান ও ছবি আঁকায় দক্ষ হয়ে থাকেন, তাহলে বিভিন্ন একাডেমি বা বাড়িতে গিয়ে এসব শেখাতে পারেন। যাদের প্রোগ্রামিং ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে, তারা কয়েক ঘণ্টা কাজ করে মোটামুটি অঙ্কের টাকা আয় করতে পারেন। তবে এর আগে ডিজাইনিং ও কোডিং সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে।

ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট

কাজটি আনন্দের কিন্তু তা সবার জন্য নয়। এক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি। তবে খণ্ডকালীন হিসেবে সপ্তাহে দুটি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারেন।

লাইব্রেরিয়ান

ক্লাসের পর কয়েক ঘণ্টা লাইব্রেরিতে বসে থাকতে নিশ্চয়ই মন্দ লাগবে না। বিভিন্ন স্কুল বা কলেজের লাইব্রেরিয়ান হিসেবে নিয়োগ পেতে খোঁজখবর নিন।

খণ্ডকালীন চাকরি খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি বাড়তি যোগ্যতা গুলো নিজের ভিতর ধারণ করুন-

* অবশ্যই চৌকস ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হতে হবে।

* সাবলীল ও সুন্দর করে কথা বলা জানতে হবে।

* ইংরেজি ও কম্পিউটারে পারদর্শী হতে হবে।

* মানুষকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা থাকতে হবে।

* নিজেকে সুন্দর ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

* যে কাজই করবেন, সেই সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা ও সঠিক তথ্য জানতে হবে। তাহলে আর আপনার খণ্ডকালীন কাজ পেতে কোন সমস্যাই হবেনা।
পড়াশোনার পাশাপাশি অর্থ আয় ও অভিজ্ঞতা অর্জনের নতুন পথ খুলে দিয়েছে খণ্ডকালীন চাকরি। এখানে যে কোনো সময় যে কোনো চাকরি যেমন নেয়া যায়, তেমনি ভালো না লাগলে ছেড়েও দেওয়া যায়। তবে নিজের দক্ষতা বাড়াতে খণ্ডকালীন চাকরির বিকল্প নেই।

সূত্রঃ বণিক বার্তা

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here