হাসতে শেখায় লাফটার ক্লাব

হাসতে নাকি জানে না কেউ/ কে বলেছে ভাই/ এই শোন না কত হাসির খবর বলে যাই— ছোটবেলায় রোকনুজ্জামান খানের লেখা এ ‘হাসি’ কবিতাটি পড়েননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। মন খারাপের সময় যদি হঠাৎ করে হেসে ফেলেন, তবে দেখবেন নিমিষেই মনের সব মেঘ উধাও হয়ে গেছে

হাসিতে শুধু যে মন ভালো হয় তা কিন্তু নয়, শরীরের সুস্থতায়ও এ হাসির প্রয়োজন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ‘লাফটার ক্লাব’ নামে এক ধরনের ক্লাব রয়েছে। এসব ক্লাবের লোকজন সেখানেই যায় শুধু প্রাণ খুলে হাসার জন্য। শুধু কি তাই। হাসি নিয়ে নিয়মিত গবেষণাও করেন তারা। যেসব গবেষণা থেকে বেরিয়ে এসেছে রোমাঞ্চকর নানা তথ্য। যেমন এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিজে নিজে হাসির চেষ্টা করার চেয়ে কয়েকজন মিলে হাসা ৩০ গুণ বেশি সোজা। হাসি মানুষে মানুষের সম্পর্ক ভালো করে, যোগাযোগের পরিসর বাড়ায়। নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জন্মায়।

স্বাভাবিকভাবেই হাসি মানুষকে ইতিবাচক চিন্তা করতে শেখায়। এতে শরীরের অসুখই নয় বরং মনের অসুখও পালিয়ে যায়। অনেক কঠিন সমস্যার সমাধান হয়ে যায় একটু হাসিতেই। ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা সামাজিক সম্পর্কের ফাটলগুলো জোড়া দেয়ার কাজটিও হয়ে যায় সহজ। যত হাসবেন, শারীরিক সুস্থতাও নিশ্চিত হবে তত বেশি। হাসিতেই আছে অনেক রোগ সারানোর দাওয়াই। যারা সবসময় হাসি-খুশি থাকেন, তারুণ্য তাকে ছেড়ে যাবে না কখনই। বলতে পারেন দীর্ঘদিন তারুণ্য ধরে রাখার কৌশল এটি। হাসলে মানুষের মুখমণ্ডলের এক ধরনের ব্যায়াম হয়, যা রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, বাড়ায় মুখের উজ্জ্বলতাও।wdp_5200

ডায়াবেটিসে যারা ভুগছেন, প্রাণ খুলে হাসলে তাদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনেকটাই কমে যায়। আর এ কথাটি নিশ্চয়ই সবার জানা যে, ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখাটা কতটা জরুরি। মন খুলে হাসলে অ্যাজমা, সাইনোসাইটিসের মতো রোগেও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায় অনেকাংশে।

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুরা দিনের প্রায় বেশির ভাগ সময়ই জোরে জোরে হাসে। যার সুবাদে সারা দিনই ক্লান্তিহীন, প্রাণবন্ত ও চঞ্চল থাকে তারা। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির পক্ষে এমনটা করা সম্ভব না হলেও দিনে অনন্ত ১৫ মিনিট প্রাণ খুলে হাসলে সেও থাকবে শিশুর মতো ক্লান্তিহীন।

শরীরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে এবং ব্যথা নিরাময়ে প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে কাজ করে অট্টহাসি। যারা উচ্চরক্তচাপ ও হূদরোগে ভুগছেন, তাদের জন্যও হাসি বেশ কাজে দেয়।

হাসিতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে বিধায় হূদরোগ কিংবা হূিপণ্ড সংক্রান্ত যে কোনো ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এর জুড়ি নেই। এর পেছনের কারণ হাসলে রোগ প্রতিরোধ ফাংশনগুলো দ্রুত কাজ করে। ফলে শরীর থেকে দূর হয় যায় অবসাদ আর ক্লান্তির ছোঁয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here