৫টি বিউটি প্রোডাক্ট যা কখনও কারো সাথে শেয়ার করা যাবে না!

0
458
এসব প্রোডাক্টের মাধ্যমে রোগজীবাণু একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে স্থানান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে

মেকআপ কিট দেখলে খুশি হয়ে ওঠেন এমন নারীর সংখ্যা অনেক বেশি। আপনার চোখের সামনেই আপনার প্রিয় বান্ধবী তার ব্যাগ থেকে হালকা গোলাপি রঙের ন্যুড লিপস্টিক বের করে পরে নিল আর সাথে সাথেই তাকে এতো চমৎকার লাগলো যে আপনার মনটাও আইঢাই করে উঠল ঐ লিপস্টিকের একটু ছোঁয়া পেতে!

মন যতই উতলা হোক আর বান্ধবী যতই কাছের হোক, তার কাছ থেকে লিপস্টিক নিয়ে শেয়ার করা যাবে না কোনমতেই। শুধুমাত্র লিপস্টিকই নয় এরকম আরও অনেকগুলো বিউটি প্রোডাক্টের বেলায় এই কথাটি প্রযোজ্য। কেননা এসব প্রোডাক্টের মাধ্যমে রোগজীবাণু একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে স্থানান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

চলুন তাহলে দেখে নেয়া যাক কি সেই ৫টি বিউটি প্রোডাক্ট যা শেয়ার করতে মানা!

জারের ভিতরে পাওয়া যায় এমন যেকোনো বিউটি প্রোডাক্ট কাউকে দেব না

ক্লিঞ্জার, ডে বা নাইট ক্রিম, আই ক্রিম, ফাউন্ডেশন, লিপ বাম ইত্যাদি প্রোডাক্ট যে সব কৌটায় করে আনা হয় যদি সেগুলোর ভিতরে আপনাকে আঙুল ঢুকিয়ে ক্রিম বের করতে হয় তবে দুটো জিনিস অবশ্যই মাথায় রাখবেন।

  • ক্রিম জাতীয় এধরণের জিনিসের সংস্পর্শে যাওয়ার আগে হাত ভালো করে ধুয়ে নিন।
  • এই প্রোডাক্টটি আপনার একান্ত ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য আলাদা করে রেখে দিন।

আপনার ত্বকে আপনি যে প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন তার ৬০ ভাগ সরাসরি আপনার ত্বক শোষণ করে নেয়। কাজেই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সামান্যতম অসাবধানতা আপনার অনেক বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কেউ যেন ছুঁতে না পারে আপনার মেকআপ ব্রাশ!

ব্রণ যদিও ত্বকের অভ্যন্তরীণ একটি সমস্যা, তবে ব্রণ আছে এমন কারও মেকআপ ব্রাশ ব্যবহার করে আপনি নিজে ব্রণকে দাওয়াত দিয়ে ডেকে আনতে পারেন! বিশ্বাস করতে হলেও এটি সত্যি যে অন্য কারও মেকআপ ব্রাশ ব্যবহার করার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়ায়। কাজেই আপনার ব্রাশটিকে যতোটা সম্ভব একান্ত ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করুন। কখনও যদি বাধ্য হয়ে অন্য কারও মেকআপ ব্রাশ নিতেই হয় তাহলে পানি দিয়ে ধুয়ে ঝেড়ে নিয়ে তা কাজে লাগান। আর সপ্তাহে একদিন নিয়ম করে শ্যাম্পু দিয়ে ব্রাশ ধুয়ে ফেলতে ভুলবেন না যেন।

বিউটি প্রোডাক্টের বেলায় বলতে হবে নো শেয়ারিং
বিউটি প্রোডাক্টের বেলায় বলতে হবে নো শেয়ারিং

লিপস্টিক বা লিপবাম হোক শুধুই আপনার

লিপস্টিক বা লিপবাম শেয়ার করার ক্ষেত্রে না বলাটা কতোটা কষ্টকর তা শুধু মেয়েরাই জানে! ব্রিটিশ স্কিন স্পেশালিষ্ট ড. এঙ্গেলম্যান বলেন, “নারীদের একটি বেশ বড় শতাংশ এইচএসভি-১ রোগে ভুগছে যা তারা নিজেরাও জানে না। একজনের ব্যবহার্য জিনিস আরেকজনের ব্যবহারের মাধ্যমে এই রোগটি বেশি ছড়ায়”। এ ধরণের ভাইরাসের আক্রমন থেকে বাঁচতে হলে নিঃসন্দেহে আপনাকে নিজের জিনিসের ব্যাপারে বেশি যত্নবান হতে হবে। লিপস্টিক বা লিপবাম অন্য কারও সাথে শেয়ার করার চিন্তা একেবারেই বাদ দিতে হবে। উদারতা দেখাতে যেয়ে আপনি নিশ্চয় রোগবালাই ঘরে ডেকে আনবেন না। লিপস্টিক বা লিপবাম ফ্রিজে রাখতে পারলে খুব ভালো হয়।

মাশকারা শেয়ার করতে মানা

আপনার পছন্দের মাশকারাটিকে যদি ভাইরাস আর ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে জান তাহলে তার সর্বসত্ব একদম নিজের করে রাখুন। তা নাহলে কঞ্জাংক্টিভিটিসের মতো রোগে আপনি ও আপনার চোখ উভয়ই আক্রান্ত হবেন। যদি একান্ত মাশকারা শেয়ার করতেই হয় তবে অন্য কারও ব্যবহারের পরে প্রোফেশনাল মেকআপ আর্টিস্টদের মতো চোখের বেশ কিছুটা বাইরে থেকে মাশকারা লাগিয়ে নিন। মাশকারা ওয়ান্ডটি যতোটা সম্ভব পরিষ্কার রাখুন আর বোতলের মধ্যে ঢুকানোর সময় জোর করে ঢুকান যাতে কিছুটা বাতাসও বোতলের ভিতরে ঢুকতে পারে। অক্সিজেনেটেড জায়গায় ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াদের বৃদ্ধি কম হয়।

আমার হেয়ার ব্রাশ আমি কাউকে দেব না!

বাস্তবিক অর্থে আমাদের অনেকেরই মনে হতে পারে যে হেয়ার ব্রাশ শেয়ার করলে উকুনের সংক্রমণ হওয়া ছাড়া আর তেমন কোন ঝুঁকি হয়তো নেই। তাও বড়দের মাথায় কি আর উকুন থাকে? যেসব বাচ্চারা স্কুলে যায় তাদের প্রতি একটু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করলেই বোধহয় এই ঝামেলা এড়ানো যাবে। তবে বাস্তব চিত্র কিন্তু বেশ ভিন্ন। চিরুনির মাধ্যমে খুশকি স্থানান্তরিত হতে পারে একজনের মাথা থেকে আরেকজনের মাথায়, এর ফলে তৈরি হতে পারে ইনফেকশনও। কাজেই কি দরকার ঝামেলায় যাওয়ার? তার চেয়ে বরং চিরুনি যেহেতু বেশ সস্তায় পাওয়া যায়, আলাদা করে নিজের জন্য একটি চিরুনি কিনেই নিন না এবার! আপনার প্যান্টে বা পার্সে রেখে দিন চিরুনিটি আর কমিয়ে ফেলুন অন্যের প্রতি নির্ভরতা।

কাজেই বন্ধু যতই ভালো হোক না কেন, এসব বিউটি প্রোডাক্টের বেলায় বলতে হবে নো শেয়ারিং!

তথ্যসূত্রঃ অ্যালিউর ডট কম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here