কনুই ও হাঁটুতে কালো দাগ?

0
1063
নিজের ত্বক নিয়ে কোন রকম দ্বিধা-দ্বন্দ্বে না ভুগে যেকোনো সমস্যার চটজলদি সামাধান খুঁজে নিন

ত্বকের স্বাভাবিক রঙের চেয়ে কনুই বা হাঁটুর রঙ সাধারণত এক বা দুই শেড ডার্ক হয়। কিন্তু তাই বলে পুরো হাত উজ্জ্বল বর্ণের আর কনুই কালো হলে দেখতে নিশ্চয় ভালো লাগবে না!

পুরো শরীরের রঙের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে তা দৃষ্টিকটু লাগবে। তাছাড়া ছোট হাতার জামা বা শর্টস পরতে গেলে আপনি নিজেও হীনমন্যতায় ভুগবেন।

কাজেই কনুই আর হাঁটুকে আলাদা করে না রেখে শরীরের বাকি অংশের সাথে একই টোনে আনতে হলে নিতে হবে কিছু নিয়মিত যত্ন ও পরিচর্যা। তাই নিয়েই সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের আর্টিকেল।

নারিকেল তেলের সাহায্যে কালো দাগ দূর করুনঃ

কনুই ও হাঁটুর কালো দাগ দূর করার ভালো প্রতিষেধক নারিকেল তেল। এতে রয়েছে ভিটামিন ই যা স্কিন টোন হালকা করতে সহায়তা করে এবং ত্বকের শুষ্কতা দূর করে ত্বককে করে ময়েশ্চারাইজড। ড্যামেজড স্কিনের মেরামতেও এর জুড়ি নেই।

  • প্রত্যেকবার গোসল করার পর হাঁটু ও কনুইতে ২ মিনিট ধরে ম্যাসেজ করে নারিকেল তেল লাগান। ত্বক বেশি শুষ্ক হলে দিনে কয়েকবার এই ম্যাসেজটি করতে পারেন।
  • একইভাবে ১ চা চামচ নারিকেল তেল ও ১/২ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করতে পারেন। কনুই ও হাঁটুর কালো জায়গায় মিশ্রণটি ভালো করে ঘষে নিন এবং ১৫-২০ মিনিটের ধরে প্যাকটি লাগিয়ে রাখুন। এবার নরম কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। প্রতিদিন একবার করে এই প্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন।
  • আখরোট পাউডারের সাথে ১ টেবিল চামচ নারিকেল তেল মিশিয়ে একটি ঘন প্যাক তৈরি করতে পারেন। এটিকে মাস্কের মতো কনুই ও হাঁটুর চারপাশে লাগিয়ে নিন। ১০ মিনিট রেখে স্ক্রাবের মতো করে ঘষে তুলে ফেলুন। সপ্তাহে ২ বা ৩ বার এই প্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন।

লেবুর রসের সাহায্যে কালো দাগ দূর করুনঃ

লেবুর রসে রয়েছে প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট এবং এটি স্ক্রাবের কাজও করে। এতে যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন সি থাকায় এটি ত্বকের মরা কোষগুলো তুলে ফেলতে সহায়তা করে এবং স্কিন টোন হালকা করে।

  • হাঁটু ও কনুই এ লেবুস রস লাগান এবং কয়েক মিনিট ধরে ধীরে ধীরে ম্যাসেজ করুন। ২০ মিনিট ধরে লেবুর রস লাগিয়ে রাখুন। উষ্ণ গরম পানি দিয়ে জায়গাগুলো ধুয়ে ফেলে ময়েশ্চারাইজিং লোশন লাগান।
  • এক কাপ লেবুস রসের সাথে অ্যা টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিন। কালো হয়ে জায়গাগুলোতে মিশ্রণটি ১৫ মিনিট ধরে লাগিয়ে রাখুন। পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

উপরের যেকোনো একটি মিশ্রণ ২-৩ সপ্তাহ ধরে নিয়মিত ব্যবহার করুন। লেবুর রস মাখার পর ৩ ঘণ্টা সরাসরি সূর্যের আলোর সংস্পর্শে যাবেন না।

টকদই এর সাহায্যে কালো দাগ দূর করুনঃ

টকদই এ রয়েছে ল্যাক্টিক এসিড যা ত্বককে উজ্জ্বল করে। এটি স্কিন ময়েশ্চারাইজ করতেও সহায়তা করে।

  • এক চা চামচ সাদা টকদই এর সাথে সাদা ভিনেগার মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিতে হবে। কালো জায়গাগুলোতে প্যাকটি মাখিয়ে শুকানোর সময় দিতে হবে। মিশ্রণটি শুকিয়ে গেলে উষ্ণ গরম পানি দিয়ে তা ধুয়ে ফেলে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম লাগাতে হবে। কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন প্যাকটি ব্যবহার করুন।
  • ২ টেবিল চামচ ময়দা এবং এক টেবিল চামচ টকদই মিশিয়ে নিন। কনুই ও হাঁটুতে লাগিয়ে ২০ মিনিট ধরে রেখে দিন। এবার ভেজা আঙুলের সাহায্যে পেস্টটি ঘষে নিন ও পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ বার এই প্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন।
কনুই আর হাঁটুকে আলাদা করে না রেখে শরীরের বাকি অংশের সাথে একই টোনে আনতে হলে নিতে হবে কিছু নিয়মিত যত্ন ও পরিচর্যা

চিনির সাহায্যে কালো দাগ দূর করুনঃ

কনুই ও হাঁটুর কালো দাগ দূর করতে ঘরে বসে চিনির একটি স্ক্রাব তৈরি করে নিতে পারেন। ত্বকের মরা কোষ তুলতে চিনি বেশ কার্যকরী।

  • সমপরিমাণ চিনি ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন।
  • পেস্টটি কনুই ও হাঁটুর উপর ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ৫ মিনিট ধরে ঘষে নিন।
  • মুখে ব্যবহার করার কম ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে উষ্ণ গরম পানির সাহায্যে প্যাকটি ধুয়ে ফেলুন।
  • কালো দাগ পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন একবার করে প্যাকটি ব্যবহার করুন।

বেকিং সোডার সাহায্যে কালো দাগ দূর করুনঃ

বেকিং সোডা এক ধরণের ক্লিঞ্জারের কাজ করে যা কনুই ও হাঁটুর মরা কোষ তুলে ফেলে কালো দাগ দূর করতে সহায়তা করে।

  • ১ টেবিল চামচ দুশ ও ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন।
  • ২-৩ মিনিট ধরে কালো জায়গাগুলোতে ঘষে ঘষে মিশ্রণটি লাগান।
  • উষ্ণ গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মিশ্রণটি লাগিয়ে বেশিক্ষণ রেখে দেয়ার দরকার নেই।
  • দাগ পুরোপুরি না ওঠা পর্যন্ত প্রতিদিন ব্যবহার করুন।

নিজের ত্বক নিয়ে কোন রকম দ্বিধা-দ্বন্দ্বে না ভুগে যেকোনো সমস্যার চটজলদি সামাধান খুঁজে নিন, আপনাদের সাহায্য করার জন্য আমরা তো আছি!

তথ্যসূত্রঃ নিডা ডট কম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here