বিশ্বের প্রথম জন্মদিন

আজকাল জন্মদিন নিয়ে কত আনন্দ-উৎসব কিন্তু আদিকালের লোকজন জন্মদিন নিয়ে কোন মাথা ঘামাত না। কবে কার জন্মদিন তার হিসেব ও রাখত না কেউ। প্রকৃত পক্ষে জ্যোতিষী চর্চার প্রভাবেই মানুষ প্রথম জন্মদিন সম্পর্কে সচেতন হয়। তাদের ভাগ্য গণনার জন্য জন্মদিনটা জানা তখন জরুরী হয়ে পড়ে। জন্মদিনকে ভিত্তি করেই জ্যোতিষীরা লোকজনের রাশি নির্ণয় করতেন এবং জাতকের জন্মদিনে গ্রহ-নক্ষত্রে অবস্থান দেখে তার ভূত বর্তমান-ভবিষ্যৎ বলে দিতেন। তবে জন্মদিন উপলক্ষে উৎসব অনুষ্ঠানের রেওয়াজ হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দের প্রথমার্ধে। এসময় পশ্চিম এশিয়ার লোকজনই জন্মদিনের উৎসব করে বেশ ‘জাকজমক’ করে। এদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য পারস্যবাসীরা (বর্তমান ইরান)। এরা  পশ্চিম এশিয়া দখল করার পর যে উৎসবের আয়োজন করে , সেটাই জন্মদিনের উৎসব ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব  ৫শতকের এ রকম একটি রাজকীয় উৎসবের বিবরণ পাওয়া যায় বিখ্যাত গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাসের বিবরণে। সারা বছর ধরে তারা যে উৎসব পালন করেছে তার মধ্যে জন্মদিনের উৎসবই ছিল সবচেয়ে দেখার মত। জন্মদিনের কেকের প্রচলন হয় এরও কয়েক শতক পরে। গ্রীসে চন্দ্র দেবতার পূজারীরা দেবতা আর্টেমিসের জন্মদিন উপলক্ষে মধুমিশ্রিত গোল কেক সহযোগে পূজার আয়োজন করে। কেকের উপর মোমবাতিও বসানো হয়। মোমবাতিটি চাঁদতারকার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here