ভালো থাকতে হলে আগে নিজেকে ভালবাসুন

0
124

প্রিয় বন্ধুকে আপনি ভালোবাসুন, সম্মান দেখান। একটু ভেবে দেখুন তো নিজের প্রতি আপনি কতটা দয়া, ভালোবাসা দেখান?

আমরা নিজেকে অনেক সমালোচনা করি, অনেক সময় এটা আমাদের জন্য যথেষ্ট ক্ষতির কারণ হতে পারে। নিজের প্রতি করুণা, মায়া দেখানোটা ভালো থাকার জন্য খুব জরুরি। গবেষকরা দেখেছেন এতে শুধু মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি নয় বরং শরীরও ভালো থাকে।

ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের এডুকেশনাল সাইকোলজির সহযোগী অধ্যাপক ক্রিস্টিন নেফ জানিয়েছেন, নিজের প্রতি সমবেদনা-ভালোবাসা দেখানোর সবচেয়ে ভালো উপায় নিজের সঙ্গে কথা বলা। অর্থাত্, বিপদে কিংবা কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেকে বোঝানো যে এ রকম সময় সব মানুষের জীবনেই আসে। আত্মকরুণা আপনার জীবনে বিভিন্নভাবে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারেঃ

প্রাণোচ্ছল জীবন: অনেকের জীবনে বেকারত্ব বা কর্মজীবনে নানা রকম ব্যর্থতা আসে। এখন আপনি যদি এ রকম পরিস্থিতির জন্য নিজেকে দোষারোপ করতে থাকেন, তাতে কী অবস্থান কোনো পরিবর্তন হবে? হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির ইনস্ট্রাক্টর ক্রিস্টোফার জারমারের মতে, ব্যর্থতা থেকে সাফল্যের পথে ফিরে আসার জন্য নিজেকে সহানুভূতি দেখানোটা জরুরি। তিনি আরো জানিয়েছেন, এর ফলে মানুষ প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পায়।

সম্পর্কের উন্নয়ন: নিজেকে ভালোবাসলে আপনার নিজের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটবে। একই সঙ্গে অন্যদের সঙ্গেও আপনার সম্পর্কে ভালো হবে। সমীক্ষায় দেখা গেছে এতে মানুষের সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া এতে আপনি অনেক বেশি বিচক্ষণ হয়ে উঠবেন, যা আপনার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে।love-yourself

একটু কম পারফেকশনিস্ট: গবেষকরা দেখেছেন, যে যত পারফেকশনিস্ট, সে নিজেকে তত বেশি কম করুণা দেখায়। নিজেকে পারফেক্ট করার চেষ্টা আপনার চিত্তের এবং জীবনের অনেক শান্তি নষ্ট করে। পারফেক্ট হতে গিয়ে মানুষ নিজের ওপর নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে। তাই নিজেকে দয়া করুন, এটা আপনাকে অন্যের প্রতি দয়াশীল হতেও সহায়তা করবে।

শারীরিক সুস্থতা: যারা শারীরিক কারণে মানসিক চাপ কিংবা হীনম্মন্যতায় ভোগেন, তাদের জন্য নিজের প্রতি ভালোবাসা দেখানোটা খুব জরুরি। এটা শারীরিক সুস্থতার জন্য একটি দারুণ পদক্ষেপ। যেমন— যেসব নারী তাদের শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগেন, তারা নিয়মিতভাবে নিজেকে ভালোবাসা-সংক্রান্ত কাউন্সেলিং পেলে এ বিষয়ে মানসিক সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারেন।

নিজেকে বিচার নয়: নিজেকে ভালোবাসা মানে অনুপ্রেরণা নয়। এটা নিজেকে অনুভব করা, নিজেকে মূল্যায়ন বা বিচার করা নয়। এটা নিজের ভালো-মন্দ বিচার নয়। এসব মূল্যায়ন হয় সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব করতে গিয়ে কিন্তু নিজেকে ভালোবাসতে হবে এ হিসাব থেকে মুক্ত থাকতে।

জীবন উপভোগ: যারা নিজেকে ভালোবাসেন, তারা জীবনকে উপভোগ করেন। তারা গান শোনেন, বই পড়েন, মাছ ধরেন, সাইকেল চালান, ছবি আঁকেন। অর্থাত্, তারা জীবনের আনন্দ ও সৌন্দর্যকে গ্রহণ করেন, নিজের প্রতি যত্নবান হন।

নিজের মিত্র: নিজেকে ভালোবাসলে নিজেকে নিজের পাশে পাবেন। তখন আপনি নিজের সমালোচক থেকে সবচেয়ে বড় বন্ধু হিসেবে আবির্ভূত হবেন। বন্ধু যখন বিষণ্ন থাকে, তখন আপনি তাকে প্রেরণা দেয়ার চেষ্টা করেন। একইভাবে নিজেকে ভালোবাসলে নিজেই নিজেকে প্রেরণা দিতে পারবেন।

আনন্দময় জীবন: জীবনকে আনন্দময় করতে চাইলে নিজেকে ভালোবাসুন। এতে নিজের সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাবে। জীবনের নানা বাঁকে লুকিয়ে থাকা আনন্দের সন্ধান পাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here