ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট কাকে পাঠাবেন?

ফেসবুক প্রোফাইলে থাকা ছবি ব্যবহার করেছে অন্য কেউ বা একজনের ছবি অন্যজন তার প্রোফাইলে যুক্ত করেছে এমন ঘটনা প্রায় ঘটে। তবে অনেকক্ষেত্রেই ঘটনা অন্যরকম হয়। দেখা যাচ্ছে অনেকের ছবি শুধুমাত্র বন্ধুদের জন্যই রাখা। কিন্তু দেখা যায় সে ছবিও অন্য কেউ নিয়ে নিচ্ছে। তার মানে, আপনার বন্ধু তালিকায় থাকা কেউ এ কাজটি করতে পারে। আবার আপনি কোন ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত থাকলে সে গ্রুপের অ্যাডমিনও ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতে পারে। চাইলে তিনি আপনার ছবিও অন্য কারো প্রোফাইলে ব্যবহার করতে পারেন। ফেসবুক যে কোন অপরিচিত ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করার পর ফেসবুকের পর্দায় ‘পিপল ইউ মে নো’ সুবিধায় কিছু নাম চোখের সামনে আসে। পিপল ইউ মে নোতে আসা কয়েকজনকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে আমার বন্ধুদের ফ্রেন্ড তালিকায় হয়তো ঢুকে যাচ্ছেন অপরিচিত কেউ।

সাধারণত ফেসবুক বা অন্য যেকোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চায় তাদের ব্যবহারকারী বাড়ুক। মানুষ বেশি বেশি একজন আরেকজনের ‘বন্ধু’ হয়ে উঠুক। ফেসবুকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রোগ্রামের মাধ্যমে আপনার তথ্য, ফেসবুক ব্যবহারের প্রবণতা, পছন্দ-অপছন্দ বুঝে নতুন বন্ধু করার পরামর্শ দেয়। আর ফেসবুকে বন্ধুর বন্ধুদের নাম তো আসেই। স্বয়ংক্রিয়ভাবে পিপল ইউ মে নো হিসেবে এ নামগুলো আপনার ফেসবুকে চলে আসে। পিপল ইউ মে নো সুবিধা যে খারাপ তা নয়। এর মাধ্যমে নিয়মিতই বন্ধু খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু যেসব নাম আসবে, তাদের সবাইকে কি বন্ধু হওয়ার অনুরোধ (ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট) পাঠাবেন? আবার কোনো বিখ্যাত, তারকাখ্যাতিসম্পন্ন মানুষের নাম এ তালিকায় এলেও কি অনুরোধ পাঠাবেন? না চিনে, বাস্তবে কোনো যোগাযোগ না হলে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট না পাঠানোই ভালো।

  • কাকে রিকোয়েস্ট পাঠাচ্ছেন? চেনা মানুষকেই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। অপরিচিত কাউকে পাঠানো ভদ্রতার মধ্যে পড়ে না। আর তা ছাড়া যাকে পাঠাচ্ছেন, সেও বিরক্ত হতে পারে। মোটামুটি বেশির ভাগ সচেতন ফেসবুক ব্যবহারকারীই অপরিচিতদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করে না।
  • কেন পাঠাবেন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট? আপনি কী কারণে কাউকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাচ্ছেন তা খেয়াল রাখবেন।
  • কার সঙ্গে কোন ছবি বা তথ্য শেয়ার করতে চাচ্ছেন তা খেয়াল করছেন? ভার্চ্যুয়াল জগৎ হলেও আপনার ফেসবুক প্রোফাইলজুড়ে থাকে আপনার কর্মকাণ্ড। এখানে আপনার ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখের স্ট্যাটাস, ছবিসহ অনেক কিছুই থাকতে পারে। তাই কে আপনার বন্ধু হচ্ছে কিংবা কাকে বন্ধু বানাতে চাচ্ছেন, তা খেয়াল রাখা জরুরি।
  • কারও বন্ধু হওয়ার আগ্রহ আছে? কারও স্ট্যাটাস ভালো লাগে বা কারও জানাশোনার প্রতি আপনার ভালো লাগা আছে? হতে পারে ভিন্ন কোনো কারণে আপনি মানুষটির প্রতি মুগ্ধ। তখন কী করবেন? এটি সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর করবে। সে রিকোয়েস্ট গ্রহণ না করলে তাকে কোনোভাবেই বিরক্ত করবেন না। কিংবা পরে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে কখনো তার কোনো পাবলিক পোস্টে বাজে মন্তব্য করবেন না।
  • জেনে নিন নিজের সীমাবদ্ধতা। কেউ আপনার বন্ধুত্বের অনুরোধে সাড়া দিচ্ছে না? তখন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট বাতিল করে আবার রিকোয়েস্ট পাঠানো ঠিক নয়। আবার কেউ হয়তো আপনাকে তার বন্ধু তালিকা থেকে বাদ (আনফ্রেন্ড কিংবা ব্লকড) দিয়ে দিয়েছে? এমন মুহূর্তে তাকে আবার রিকোয়েস্ট পাঠানো ঠিক নয়। আর সেই মানুষ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করা থেকে বিরত থাকুন। বরং নিজের সীমাবদ্ধতাকে জানুন।

এমন নয় যে অচেনা বন্ধু হলেই খারাপ হবে। এর মাধ্যমে ভালো বন্ধুও হতে পারে। তাই সব সময় মনে রাখতে হবে, ফেসবুক একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যা উন্মুক্ত। তাই বুঝেশুনে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান।

তথ্যসূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here