যেসব খাবার শরীরের ব্যথা কমাবে!

যেসব খাবার শরীরের ব্যথা কমাবে!

একটু ব্যথাতেই প্রায় সবারই ওষুধ খাওয়ার কথা মনে আসে কিন্তু বেশি ওষুধ খাওয়াও যে স্বাস্থ্যের জন্য ঠিক নয়। তাই ব্যথা দূর করতে ওষুধ খাওয়ার আগে রান্নাঘর থেকে একবার ঘুরে আসুন। ভাবছেন, রান্নাঘরের সাথে ব্যথার কি সম্পর্ক? আসলে আপনার রান্নাঘরেই ব্যথা ও প্রদাহনাশক এমন কিছু খাবার রয়েছে, তা নিয়মিত ও সময়মতো খেতে পারলে ব্যথা দূর হয়। কমে ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকিও! ব্যথা কমাতে একটি সুষম খাদ্যতালিকা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে প্রচুর ফল, সবজী, বাদাম, হোল গ্রেইন শস্য, মাছ আর স্বাস্থ্যকর তেল। জেনে নিন, কোন কোন খাবার ব্যথা দূর করে-

অলিভ অয়েল

প্রদাহনাশক হিসেবে অলিভ অয়েলকে স্বাচ্ছন্দ্যে বেছে নিতে পারেন। এটি স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অন্যতম মুখ্য উপাদান। ব্যথানাশক এ উপাদান স্ট্রোক ও কয়েক ধরনের ক্যান্সার রুখে দিতে সহায়ক।

শিমের বিচি
শিমের বিচি

শিমের বিচি

যাদের হাঁটুতে ব্যথা রয়েছে, তারা টানা তিন মাস প্রতিদিন শিমের বিচি খান। এতে ব্যথা কমবে। যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিমের বিচি আইসোফ্লেভোনসে সমৃদ্ধ। আইসোফ্লেভোনস প্রদাহনাশক উপাদানযুক্ত উদ্ভিজ্জ হরমোন।

গ্রিন টি

গ্রিন টি পলিফেনলের চমৎকার উৎস, যা ফ্রি রেডিক্যালসের ক্ষতিকর প্রভাব দূর করে প্রদাহ কমায়।

ব্ল্যাক কফি

তীব্র মাথাব্যথার সময় এক কাপ ব্ল্যাক কফি আরাম দিতে পারে। কারণ এতে স্ট্রবেরির চেয়ে রয়েছে অনেক বেশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। অন্যদিকে গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত পরিমাণ কফি পানে কমে ক্যান্সারের ঝুঁকি।

চেরি

চেরি শরীরের ফ্রি রেডিক্যালসকে নিষ্ক্রিয় করে এবং টিস্যুতে প্রদাহ দূর করতে ভূমিকা রাখে। অ্যান্থোসায়ানিন নামক একটি উপাদান চেরিকে গাঢ় লাল রঙ দেয়, এতে থাকে এক প্রকার প্রদাহনাশক, যা রয়েছে অ্যাসপিরিনেও।

আনারস
আনারস

আনারস

আনারসের মৌসুমে এই দেশীয় ফল সহজে পাওয়া যায়। ফলের মধ্যে ব্রোমেলেইন এনজাইমযুক্ত আনারস অস্টিওআর্থ্রাইটিসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে পারে এবং এর সম্ভাব্য উপসর্গগুলো কমায়।

হলুদ

হলুদও ব্যথা প্রশমনে খুব ভালো কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁচা হলুদে রয়েছে কারকিউমিন নামক একটি রাসায়নিক উপাদান। এই কেমিক্যালের জন্য হলুদের রঙ স্বর্ণাভ হয়। ক্যান্সারবিরোধী কারকিউমিন টিউমারের বেড়ে ওঠা রোধ করে এবং ডিএনএর ক্ষয়ক্ষতি কমায়।

ব্যথা সারাতে এক গ্লাস দুধের মধ্যে এক টেবিল চামচ হলুদের গুঁড়া মেশান।
ব্যথা সারাতে এক গ্লাস দুধের মধ্যে এক টেবিল চামচ হলুদের গুঁড়া মেশান।

প্রতিদিন খান। এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হলুদের ক্যাপসুলও খেতে পারেন।

লাল মরিচ

লাল মরিচ প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক উপাদান। তাছাড়া মরিচের সক্রিয় তৈলাক্ত উপাদান ক্যাপসেইসিন পেশির ব্যথা দূর করে।

রসুন

রসুনের মধ্যে থাকা সালফার উপাদান রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। ব্যথা ও ফোলা কমায়। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কয়েকটি কাঁচা রসুনের কোয়া খান। এ ছাড়া শরীরের যেখানে ব্যথা আছে, সেখানে রসুনের তেল দিয়ে ম্যাসাজ করতে পারেন।

দারচিনি

দারচিনি প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও প্রদাহনাশক। ব্যথা নিরাময়ের জন্য এটি সবচেয়ে শক্তিশালী মসলা হিসেবে পরিচিত।

আদা

আদার মধ্যে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, জিনজেরোল। এটি প্রদাহরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত। দুটো ছোট আকারের আদা নিয়ে ভালোভাবে খোসা ছাড়িয়ে নিন। আদাকে গুঁড়া বা পেস্ট করুন। একটি প্যানে দুই গ্লাস পানি নিন এবং এর মধ্যে আদা দিন। এরপর মিশ্রণটিকে অল্প আঁচে ১০ মিনিট জ্বাল দিন। চুলা থেকে নামিয়ে কিছুটা ঠান্ডা হলে পানীয়টি পান করুন। পিরিয়ডের সময় দুই থেকে তিন বার এটি পান করুন। কেবল পিরিয়ডের ব্যথা কমাতেই নয়, আদা হজমে সমস্যা, বমি, প্রচলিত ঠান্ডা কমাতে ও হূৎপিণ্ড ভালো রাখতে কয়েক হাজার বছর ধরে আদা ব্যবহার হয়ে আসছে। ব্যথা দূর করতে প্রদাহনাশক এই উপাদান বিভিন্ন খাবার ও চায়ে ব্যবহার করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, তলপেটে খুব বেশি ব্যথা ওভারিয়ান সিস্টের লক্ষণ হতে পারে। এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট /  টপ টেন / বোল্ডস্কাই  / বণিকবার্তা

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here