বেড়ানোর পরিকল্পনা ছোট্ট মেহমানকে নিয়ে   

ঘুরতে ভালোবাসেন, কিন্তু সংসারে ছোট্ট মেহমানটি আসার পর আর বেড়াতে যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। হয়তো ভাবছেন সন্তানের কোনো অসুবিধা হবে কিংবা এত ঝক্কি সামলাতে পারবেন কিনা। আসলে সামান্য পরিকল্পনা করে চললে আর সাবধানতা অবলম্বন করলে ছোটদের সঙ্গে নিয়েই ঘুরে আসতে পারেন যেকোনো জায়গায়। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ফৌজিয়া রশিদ ডে ফ্রান্সিস্কোর লেখা ‘দ্য রাফ গাইড টু ট্রাভেল উইথ বেবিস অ্যান্ড ইয়াং চিলড্রেন’ থেকে বাছাই করে ১০টি পরামর্শ তুলে ধরছি আপনাদের জন্য—

১. যদি শিশু সঙ্গে নিয়ে এটাই আপনার প্রথম ভ্রমণ হয়, তবে যাওয়ার আগেই সঙ্গে কী নেবেন এবং কোথায় কোথায় যাবেন, ভালোভাবে তার পরিকল্পনা করে নিন। আপনি একা থাকলে হয়তো একই সফরে অনেকগুলো জায়গা দেখে আসতে পারতেন, কিন্তু সন্তানসহ কম সময়ে বেশি জায়গায় ঘুরতে পারবেন কিনা, সেটা আগেই ভালো করে ভেবে নিন। এছাড়া সঙ্গে যত কম জিনিস বয়ে নিয়ে যাবেন, সফরে নিজেকে ততই হালকা লাগবে। তাই প্যাকিংটা কম করাই ভালো।

২. ছোট্ট ছেলেমেয়ে সঙ্গে নিয়ে থাকার জায়গা খোঁজাটা ঝামেলার ব্যাপার। যদি আপনি থাকার জায়গাটা নিজে দেখে বাছাই করতে চান, তবুও প্রথম কয়েক দিনের জন্য আগে থেকে কোনো জায়গা বুকিং দিয়ে রাখাই ভালো।

৩. যদি আপনার শিশু বোতলের দুধ খায়, তবে সঙ্গে দুধ তৈরির সব উপকরণ রাখবেন, যাতে প্রয়োজন হলে রাস্তায়ও নতুন বোতল বানাতে পারেন। সময় বাঁচাতে কয়েকটা বোতলে আগে থেকেই খানিকটা পানি ভরে রাখতে পারেন। তাহলে সময়মতো গুঁড়ো দুধ ও গরম পানি মিশিয়ে নিলেই চলবে।

৪. যদি আপনি গরম কোনো জায়গায় বেড়াতে যান, তবে সঙ্গে নেয়ার জন্য প্রাকৃতিক তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক বেছে নিন। ঘাম, বিশেষ করে শিশুদের ত্বকে অস্বস্তি সৃষ্টি করে, এতে ঘামাচি বা ফুসকুড়ি হতে পারে। শিশুরা যদি গরম আবহাওয়ায় অভ্যস্ত না হয়, তবে তারা ঘন ঘন ঘামবে। সুতরাং তাদের জামাকাপড় দিনে দু-তিনবার পাল্টে দিতে হবে। এছাড়া ছোটদের চোখ অনেক বেশি আলোক সংবেদনশীল হয়, তাই তাদের জন্যও সানগ্লাস ব্যবহার করুন।

৫. বাসে বা ট্রেনে যাতায়াতের সময় কে আগে উঠবে, কে পরে, লাগেজ কার কাছে থাকবে এসব ব্যাপার আগে থেকেই ঠিক করে নিন। তাহলে কিছু হারাবে না। ট্রেনে ভ্রমণের সময় শিশুদের নিজেদের থেকে বেশি দূরে যেতে দেবেন না, বিশেষ করে ট্রেন থামার সময়টা শিশুদের নিজের কাছে রাখাটাই মঙ্গল।

৬. সাধারণত হোটেলে শিশুদের মশারি দেয়া হয় না। তাই তাদের মশারি সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়াই ভালো।

৭. প্রাইভেটকারে ভ্রমণের সময় শিশুদের বিনোদনের জন্য সঙ্গে পোর্টেবল সিডি/ডিভিডি প্লেয়ার রাখতে পারেন। তাহলে শিশুরা চলার পথে কম বিরক্ত করবে। আর যদি নিজে অথবা ড্রাইভার আওয়াজের কারণে বিরক্ত বোধ করেন, তবে হেডফোন ব্যবহারই শ্রেয়।

৮. যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে যদি ভিসার প্রয়োজন হয়, তবে অবাক হবেন না যদি আপনার শিশুরও আলাদা ভিসার দরকার পড়ে। অনেক দেশেই শিশুদের জন্য ভিসার প্রয়োজন আর অনেক সময় সে ভিসার ফি আপনার সমানই হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আবার শিশুদের ভিসা নেয়ার সময় তাকে উপস্থিত থাকতে হয়। তাই আগে থেকেই ভিসার সব নিয়মকানুন জেনে নিন।

৯. প্রতিটা নতুন জায়গায় যাওয়ার পরই একটা নির্দিষ্ট স্থান ঠিক করে রাখতে ভুলবেন না। যাতে করে কেউ যদি ভিড়-ভাট্টা বা অন্য কোনো কারণে দলছুট হয়েও যায়, তবে যথাস্থানে সবাই একত্র হতে পারেন।

১০. নতুন কোনো জায়গায় গেলে শিশুদের সেখানকার স্থানীয় খেলনা দিয়ে খেলতে উৎসাহ দিন। শিশুরা দামি কিছু দিয়ে খেলার চেয়ে আশপাশের স্থানীয় শিশুদের খেলনা দিয়ে খেলতেই বেশি পছন্দ করবে, আর এতে করে তারা নতুন কিছু বন্ধু বানানোরও সুযোগ পাবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here