অন্যমনস্কতার উপসর্গ, কারণ ও প্রতিকার

2
1309
অন্যমনস্কতার উপসর্গ, কারণ ও প্রতিকার
অন্যমনস্কতা একটি মানষিক সমস্যা। এটা ছোট-বড় সবারই হতে পারে।

ফাহিম দেওয়ান

অন্যমনস্কতা আসলে রোগ। মনোবিজ্ঞানীরা তাই-ই বলেন। অন্যমনস্কতা একটি মানষিক সমস্যা। এটা ছোট-বড় সবারই হতে পারে। অন্যমনস্কতাকে অনেক সময় অমরা ‘বেখেয়াল’ বলেই চালিয়ে দিই। সাধারণত এটাকে সমস্যা বলে চিহ্নিত করতে চাই না অথবা বুঝতে চেষ্টা করি না। একটু সচেতন হলে অবশ্য অন্যমনস্কতার বিড়ম্বনা থেকে রেহাই মিলবে। পাশাপাশি মনোচিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায়ও ফেরা সম্ভব।

এখানে অন্যমনস্কতার কিছু লক্ষণ রইল। হয়ত প্রতিনিয়তই এমন ঘটছে। বুঝতে পারছেন না। মিলিয়ে নিন।

১।বাজারে গিয়ে শ্যাম্পুর বদলে সাবান আর লবণের বদলে চিনি কিনে ফেলছেন? কিংবা যে কথাটা বলা দরকার সেটা না বলে অন্য কথা বলে ফিরে এসেছেন? শার্ট পরবেন ভেবেছিলেন, টি-শার্ট পরে নিলেন?

২।এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে কার্ড আনতে ভুলে গেছেন এবং প্রায়ই এ কাজ করে ফেলছেন?

৩।কাউকে সময় দিয়ে নিজেই ভুলে যাচ্ছেন? কিংবা আলোচনার বিষয় মনে থাকছে না?

৪।ভুল করে প্রায়ই লেডিস টয়লেটে ঢুকে পড়ছেন?

৫।টুথপেস্ট ভেবে শেভিং ক্রিম দিয়ে দাত ব্রাশ করছেন? চুলে শ্যাম্পুর বদলে বডি লোশন লাগিয়ে ফেলছেন?

৬।আড়ালে রাখতে গিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসের কথা নিজেই ভুলে যাচ্ছেন?

৭।লাচ্চি আর কফি একসাথে করে অতিথিদের দিচ্ছেন? খাবার ট্রেতে না নিয়ে হাতে করেই পরিবেশন করছেন?

৮।মনের ভুলে কফিতে দই মিশিয়ে ফেলচ্ছেন? দোকানিকে কফির বদলে চায়ের কথা বলে ফেলছেন?

৯। বাসে কি দুবার টিকিট কাটচ্ছেন? অথবা টিকিট নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছেন, বাসে উঠছেন না?

১০। দু পায়ে দু রকমের চটি পরে বাইরে বেরিয়ে পড়ছেন?

এমনিতেই কিন্তু এসব হচ্ছে না। নির্দিষ্ট কারণ আছে। কী সেই কারণ? চোখ বুলিয়ে নিন।

১. অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাকটিভ ডিসওয়ার্ডারে ভুগলে এমন সমস্যা হয়। কোনো কাজেই মনযোগ দেওয়া যায় না।

২. অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসওয়ার্ডার সাধারণত বড়দের মধ্যে দেখা যায়। এমন হলে মাথায় অপ্রয়োজনীয় চিন্তা বাড়তে থাকে। ফলে অন্যমনস্কতা বাড়ে।

৩. হতাশার কারনেও এসব সমস্যা হতে পারে।

৪. সিজোফ্রেনিয়া কিংবা অ্যাংজাইটি ডিসওর্ডার হলেও অন্যমনস্কতার সমস্যা দেখা দেয়।

৫. এছাড়া ডিসটার্ব বা স্ট্রেস বাড়লেও মানুষের এসব সমস্যা দেখা দেয়।

অন্যমনস্কতার চিকিৎসাও আছে। কয়েকটি চিকৎসা পদ্ধতির কথাও জেনে রাখুন। কাজে আসবে। পাশাপাশি মনোচিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সদা সতর্ক থাকুন।

১. বাচ্চাদের অ্যাটেনশন হাইপার অ্যাকটিভ ডিসওয়ার্ডার থাকলে মেডিসিনাল ট্রিটমেন্টের সঙ্গে বিহেভিয়ারাল থেরাপি দেওয়া হয়। এছাড়াও পেরেন্টিং কাউন্সেলিং করা হয়।

২. বাচ্চাদের ধৈর্য সহকারে কাজ করতে সেখান।

৩. যেসব বাচ্চাদের হাইপার অ্যাকটিভিটি থাকে তাদের এনার্জি লসের জন্য খেলাধুলা অথবা এক্সারসাইজ প্রয়োজন।

৪. মনসংযোগ বাড়াতে বাচ্চাদের বোর্ড গেম খেলান।

৫ বড়দের ক্ষেত্রে সাধারণত মেডিসিনাল ট্রিটমেন্টের সঙ্গে সাইকো থেরাপিও দিতে হয়।

2 COMMENTS

  1. পড়ে ভাল লাগল কারন আমি নিজেও অনেক সময় অন্যমনস্ক থাকি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here