বিবাহিত সম্পর্কে সহজ থাকুন

1
1656
বিবাহিত সম্পর্কে একে অন্যের প্রতি সহজ থাকুন
বিবাহিত সম্পর্কে একে অন্যের প্রতি সহজ থাকুন

ফাহিম দেওয়ান

সংসারে মান-অভিমান থাকেই। অনেকে বলেন, মান-অভিমানই সম্পর্কের জৌলস। কখনো কখনো ভুল বোঝাবোঝিও হতে পারে। তখন একের প্রতি অন্যের আস্থা কমতে থাকে। বিশ্বাসও হালকা হয়ে যায়। জন্ম নেয় অভিযোগ। সৃষ্টি হয় অশান্তি। সম্পর্কে ফাটল ধরে। এসব তুচ্ছ কারণে সংসারও ভেঙে যায় অনেক সময়।

কখনো ভেবেছেন, কী এর প্রতিকার? এমন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চান? কিছু বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখুন। রইল তেমনই কয়েকটি পদক্ষেপ। চর্চার মাধ্যমে সম্পর্ককে সহজ রাখুন।

দু-জন দুজনকে নিজ নিজ পছন্দ-অপছন্দের বিষয়গুলো জানান। একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করুন। ভাবুন, কি করলে ভুল বোঝাবোঝি থাকবে না। সব সময় দোষ না ধরে প্রশংসা করুন।

সন্দেহ থেকে জন্ম নেয় ভুল বোঝাবোঝি। অকারণে সন্দেহ করার মনোভাব ছাড়ুন। একে অপরকে বিশ্বাস করুণ। শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস বাড়াতে পারলে সম্পর্কের খিটিমিটি ভাব কেটে যাবে। দু’জন দুজনের শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস অর্জন করে নিন।

* ভালবাসা মানে একটু খুনশুটি, ঝগড়া! এসব না হলে বেমানান লাগে সংসার জীবন। তবে, অতিরিক্ত কিছু ভাল না। পুরোনো বিষয় নিয়ে ঝগড়া করা ছেড়ে দিন। স্বামী-স্ত্রী কেউই কাউকে জোর করে কোনো রকম ঝগড়ার মধ্যে ফেলবেন না।

* নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ছাড়ুন। তুলনা করার অভ্যাস ত্যাগ করুন। এটা সংসার জীবনের জন্য খুবই ক্ষতিকর। আপনারা একে অপরের জীবনসঙ্গী, শত্রু নন- মনে রাখবেন। নিজেদেরকে একটি দল হিসেবে ভাবুন। যেখানে দুজন দুজনের জন্য।

আপনি আপনার স্বামী বা স্ত্রীকে কতটা ভালবাসেন, তাকে তা জানানোর চেষ্টা করুন। বিভিন্ন উপলক্ষ তৈরি করে একে অপরকে ছোট-খাট উপহার দিন, সম্পর্ক মধুর হবে।

* অবসর সময়টুকু সঙ্গীকে দিন। মাঝেমধ্যে দুজনে একসঙ্গে বাইরে ডিনার করুন। পারলে শহর থেকে দূরে কোথাও গিয়ে ঘুরে আসুন। তবে সংসার সহজ হবে।

একে অন্যকে কাজে উৎসাহ দিন। অফিস থেকে ফেরার পর, স্ত্রী যখন আপনাকে চা-কফি দিবে, তাকে ধন্যবাদ দিন! যে মানুষটির সঙ্গে জীবন পার করছেন, তাকে ছোট্ট একটি ধন্যবাদ দেওয়ার কথা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই।

অফিসের কাজ অফিসেই সেরে নেবেন। বাড়িতে অফিসের বিষয় নিয়ে আলোচনা না কারাই ভালো।

* মাঝেমধ্যে নিজেকেও সময় দিন। পছন্দের বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন। বেড়াতে যান, মনমেজাজ সতেজ থাকবে।

* আপনার জীবনে সঙ্গীর গুরুত্ব অনুধাবন করুন। খোঁজ নিন, তাঁর কিছু লাগবে কিনা। অফিসের কাজের ফাকে ফোন দিয়ে তাঁর খোঁজ নিন। সঙ্গীর প্রতি সহানুভূতিশীল হোন।

* স্বামী বা স্ত্রী তাঁর পরিবারকে অর্থসাহায্য করতে চাইলে বাধা দিবেন না। খেয়াল রাখবেন, উভয়ের স্বধীনতা সমান। সচেতন না থাকলে এ নিয়েও ঝগড়া বাঁধতে পারে।

* শুধু যৌনতা নয়, মমতা রেখে একে অন্যকে স্পর্শ করুন। সঙ্গীর শারিরীক অসুস্থতা ও পরিবর্তনের দিকে নজর রাখুন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিবাহিত জীবনে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক খুবই দরকারি। এতে দাম্পত্য জীবন মধুর হয়।

1 COMMENT

  1. ধন্যবাদ ফাহিম দেওয়ান।
    আশা করি আপনি আমাদের আরো ভালো কিছু উপহার দিবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here