বুঝেশুনে ভিটামিন গ্রহণ করুন!

ভিটামিন গ্রহণ করুন খাবার থেকেই।

শারীরিক দুর্বলতা থেকে শুরু করে হাড় ক্ষয়ের উপসর্গ— এমন অনেক কারণে ওষুধের দোকান থেকে ভিটামিন কিনে আনেন অনেকে। অনেক সময় আবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে ভিটামিন খাওয়ার প্রতি ঝোঁকেন কেউ কেউ। হুটহাট ভিটামিন খেলে হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে শারীরিক দুর্বলতা ও অন্যান্য সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। কিন্তু এই ভিটামিন কতটা উপকারী? শরীরে কি এটি কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে? সম্প্রতি এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মানবদেহে ভিটামিনের প্রভাবের ওপর গবেষণা চালিয়েছেন আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের একদল গবেষক। সেখানে উঠে এসেছে ভীতিকর কিছু তথ্য—

দীর্ঘজীবন বাধাগ্রস্ত করে

শরীরের ফিটনেস ধরে রাখতে প্রতিদিন নিয়ম করে যারা মাল্টিভিটামিন গ্রহণ করছেন, তাদের জন্য একটি ভয়ঙ্কর তথ্য হাজির করেছে ওই গবেষণা। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন গ্রহণে বাড়ে মৃত্যুঝুঁকি। ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সের ৩৮ হাজার নারীর ওপর জরিপ চালায় আইওয়া উইমেন’স হেলথ স্টাডি। সেখানে দেখা যায়, নিয়ম করে প্রতিদিন মাল্টিভিটামিন গ্রহণের প্রবণতা রয়েছে যাদের, অন্যদের তুলনায় তাদের মৃত্যুহারের পরিমাণ ৬ শতাংশ বেশি।

প্রশ্নবিদ্ধ গুণগত মান

বিভিন্ন রঙ আর আকারের ভিটামিন কেনার সময় এর মধ্যে বিরাজমান উপাদানগুলো সম্পর্কে কি কখনো ভেবেছেন! আমেরিকার বাজার পরিসংখ্যান দল কনজিউমারল্যাবডটকম জরিপ চালায় দেশটির স্থানীয় বহুল বিক্রীত ৪১টি মাল্টিভিটামিনের ওপর। এতে দেখা যায়, মোড়কে উল্লিখিত উপাদানের সঙ্গে আদৌ মিল নেই ভেতরের উপাদানের। খোদ উন্নত বিশ্বের ওষুধ কোম্পানিগুলোর যখন এই অবস্থা, তখন কিছুটা সংশয় জাগে আমাদের এখানে প্রাপ্ত ভিটামিনের গুণগত মান নিয়ে।

ভিটামিন গ্রহণ করুন খাবার থেকেই

ওষুধের দোকান থেকে শুরু করে বেশির ভাগ ভিটামিন বিক্রি হয় ফুড স্টোরে। তাই অনেক ক্ষেত্রে বজায় রাখা হয় না এর সংরক্ষণ মান। তাই মাল্টিভিটামিন গ্রহণ না করে সরাসরি খাবার থেকেই নিন এসব পুষ্টি উপাদান। হেলদি ডায়েটের মাধ্যমে খাবার থেকেই ভিটামিন আর মিনারেলসের ঘাটতি পূরণ সম্ভব। মাল্টিভিটামিনের পরিবর্তে খেতে পারেন-

আমন্ড
আমন্ড

আমন্ডঃ

১ দশমিক ৫ আউন্স আমন্ড বাদামে রয়েছে প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ই এবং ম্যাগনেশিয়াম।

সামুদ্রিক মাছঃ

বস্তুত সামুদ্রিক মাছ মানুষের স্বাস্থ্যরক্ষায় এক বিস্ময়কর উপাদান। এ কারণেই চিকিৎসক ও চিকিৎসাবিষয়ক গবেষকেরা মাছ অধিক পছন্দ করেন, ভালোবাসেন। রোগীদেরও অধিক মাছ খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সামুদ্রিক ঝিনুকে বিদ্যমান রয়েছে ভিটামিন বি১২, জিংক, কপার, আয়রন, সিলিনিয়াম। হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর জন্য প্রতি সপ্তাহে একজন মানুষের ১৭৫০ মিলিগ্রাম ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রয়োজন বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। তবে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন সপ্তাহে দুইবার সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার সুপারিশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি পরিচালিত দু’টি গবেষণায় বলা হয়েছে যে, কিছু কিছু সামুদ্রিক মাছ রয়েছে যেগুলোতে সেলেনিয়াম নামের একটি খনিজ পদার্থ আছে যেটি পারদের ক্ষতিকর প্রভাবকে কমিয়ে দেয়। আরো গবেষণার মাধ্যমে যদি সেলেনিয়ামের এই কার্যকারিতার বিষয়টি যথার্থভাবে প্রমাণিত হয় তাহলে সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে সেলেনিয়াম ও পারদের ভারসাম্য রক্ষা সহজ হবে। তবে কেউ যদি সামুদ্রিক মাছ মোটেই খেতে না চান তাহলে তিনি বিকল্প বা পরিপূরক হিসেবে মাছের তেল খেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আপনি হয়তো মজাদার বা মুখরোচক কিছু খাবার থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই আপনার জন্য পরামর্শ হচ্ছে, আপনার প্রিয় মাছগুলো কিনে মজা করে রান্না করে খান। তবে মাত্রা যেন পরিমাণমতো হয়।

শস্যজাতীয় খাবারঃ

শস্যজাতীয় খাদ্যে আছে আঁশ, ফলিক এসিড, ভিটামিন বি এবং লৌহ ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ উপাদান। পর্যাপ্ত পরিমাণে শস্যজাতীয় খাদ্যগ্রহণ দুরারোগ্য বিভিন্ন রোগ বৃদ্ধির ঝুঁকি কমায়। তাই নিরোগ থাকতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় শস্যজাতীয় খাদ্য রাখা প্রয়োজন।

সামুদ্রিক শৈবাল
সামুদ্রিক শৈবাল

সামুদ্রিক শৈবালঃ

সামুদ্রিক শৈবালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সামুদ্রিক খনিজের উপস্থিতি; এর মানে এতে রয়েছে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, নিয়াসিন, ফসফরাস ও ম্যাগনেশিয়াম। মানবদেহের প্রয়োজনীয় ৫৬টি খনিজের উপস্থিতি রয়েছে সবুজ এ খাবারে। শুধু কি তাই? ভিটামিন এ, কে, সি, ই ছাড়াও ভিটামিন বি’র দারুণ উৎস এটি। ছোট ছোট শিশুরা দ্বীপ থেকে সংগৃহীত শৈবাল পর্যটকদের কাছে বিক্রি করে থাকে। সামুদ্রিক শৈবালের রং দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে শৈবালের দিন দিন চাহিদা বাড়ছে, কারণ শৈবালে আছে ওষুধিগুণ। শৈবাল টিউমার, রক্তচাপ, হৃদরোগসহ নানা রোগের ঝুঁকি কমায়।

আর হ্যাঁ, এমন যদি হয় যে আসলে আপনার ফিটনেস কমে যাচ্ছে। তাহলে ফিটনেস বাড়ানোর জন্য ওষুধের দোকান থেকে ভিটামিন কিনে না খেয়ে সবচেয়ে ভালো কৌশল হলো নিয়মিত ব্যায়াম করা বা হাঁটা। গবেষণায় প্রমাণিত যে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। ব্যায়াম আপনার ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্র ও পেশির কর্মক্ষমতা বাড়ায়, জ্বালানি জোগায়।

সূত্রঃ বণিক বার্তা

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here