বালিশ হোক আরামদায়ক

0
824

ঘুমের জরুরি অনুষঙ্গ বালিশ। তবে এ বালিশ হতে পারে মাথা ও ঘাড় ব্যথার কারণ। হতে পারে হাঁপানি রোগের কারণ। বালিশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইরগোফেক্স সম্প্রতি ২ হাজার ২০০ নারী-পুরুষের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখেছে মাত্র ১৮ শতাংশ মানুষ দুই বছর পরপর বালিশ পরিবর্তন করে। গড়পড়তা একজন মানুষ তিন বছর দুই মাস পর শোয়ার বালিশ বদল করে। পুরনো বালিশে ঘুমালে ঘাড় ও মাথা ব্যথা এবং ধুলাবালি সংক্রমিত হতে পারে শরীরে।

স্লিপ টু লাইভ ইনস্টিটিউট ইন আমেরিকার মতে, প্রতি ছয় মাস অন্তর বালিশ পরিবর্তন করা উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বালিশকে ভাঁজ করার পর সোজা করলে যদি ভাঁজ গভীর পর্যন্ত থেকে যায়, তাহলে বুঝতে হবে বালিশটির মেয়াদ রীতিমতো শেষ। এ ধরনের বালিশ শরীরে ব্যথার উদ্রেক করে। এমনকি ধুলাবালির কারণে অ্যালার্জি ও হাঁপানির সৃষ্টি হতে পারে।How-important-are-good-pillows-for-your-sleep

২০০৫ সালে ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারে এলার্জি বিষয়ে গবেষণা করা হয়। দেড় বছর এবং ২০ বছর পর্যন্ত ব্যবহূত বালিশের ওপর পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এগুলোয় হাজার হাজার জীবাণুর অস্তিত্ব। এর মধ্যে হাঁপানির জীবাণুও  পাওয়া গিয়েছে। আরেকটি গবেষণা থেকে জানা যায়, দীর্ঘমেয়াদে একই বালিশ বার বার ব্যবহারে বিশেষ করে সকালের দিকে মাথা, ঘাড় ও হাতে ব্যথা হতে পারে। এমনভাবে বালিশ ব্যবহার করা উচিত, যা মেরুদণ্ডের সহায় হয়। এক্ষেত্রে শোয়ার ধরনেরও পরিবর্তন করা আবশ্যক। ভালো মানের বালিশ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পলিয়েস্টারের বালিশ ব্যবহার করা উচিত। তুলার বালিশ ঘাড় ব্যথার জন্য দায়ী।

জার্নাল অব পেইন রিসার্চের জরিপ মোতাবেক, যারা তুলার বালিশে এক পাশ হয়ে শোয়, তাদের ঘাড়ে ব্যথা বেশি হয়ে থাকে। তাদের জন্য প্রয়োজন ল্যাটেক্সের বালিশ। শোয়ার বালিশ ব্যবহারে নিজস্ব পছন্দ থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে উচিত হবে বালিশ কেনার সময় ঠিকমতো যাচাই-বাছাই করে দেখতে। তবে যে কোনো ধরনের বালিশ ব্যবহারে নজর রাখতে হবে, যাতে এটা মাথা ও ঘাড়ের শত্রু হয়ে না দাঁড়ায়। নিয়মিত গরম পানি দিয়ে বালিশ পরিস্কার রাখা কিংবা বালিশের কভার পরিবর্তন একান্ত জরুরি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here